খাটাশ
খাটাশ বা খটাশ নকুলজাতীয় মাংসাশী জন্তুবিশেষ যার ইংরেজী নাম Polecat। সাধারণত ৪ প্রজাতির খাটাশ দেখা যায়।১. Marbled Polecat (Vormela peregusna)
২. Steppe Polecat (Mustela eversmanii)
৩. Striped Polecat (Ictonyx striatus৪. European Polecat (Mustela putorius)
সাদা বাঘ
লেখা ও ছবির সূত্র: দৈনিক আজকের কাগজ, জুলাই ৫, ২০০৭সাদা বাঘ। বিরল প্রজাতির বাঘ। দেশের অন্য কোনও স্থানে বা চিড়িয়াখানায় এ প্রজাতির সাদা বাঘ আছে কি না জানা নেই। তবে শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডস্থ প্রাণী ও পরিবেশবিদ সিতেশ দেব’র মিনি চিড়িয়াখানায় বিরল এ সাদা বাঘটি আপনি দেখতে পাবেন। আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে ৬ মাস বয়সী এ সাদা বাঘটি শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। সিতেশ দেব খবর পেয়ে সাদা বাঘটি সংগ্রহ করে তার মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন।
বর্তমানে সাদা বাঘটি লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা আড়াই ফুট এবং ওজন ৩৫ কেজি। অত্যন্ত হিংস্র এ সাদা বাঘটি মাংস ছাড়া অন্য কোনও খাবার গ্রহণ করে না। প্রতিদিন বাঘটি দেড় কেজি মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। এ বাঘের সবচে’ আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে· প্রতি মুহূর্তে এর চোখের রঙ বদলায়। কিছুক্ষণ পর পর এর চোখ লাল, হলুদ, সাদা ও কমলা রঙ ধারণ করে।
সাদা বাঘটি দেখতে এখানে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ড. মো. আলী রেজা খানের ‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী’ ও ‘দ্য বুক অব ইন্ডিয়ান এনিমেল’সহ বেশ কিছু প্রাণীবিষয়ক বই খোঁজাখুঁজি করেও সাদা বাঘ সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লুক
উল্লুক আকার, আকৃতি ও আচরণে গোরিলা কিংবা শিম্পাঞ্জির মতো দেখতে লেজহীন। গিবন জাতের প্রাইমেটদের মধ্যে আকারে দ্বিতীয় বৃহত্তম। বৃহত্তমটি সিয়ামাং। এদের দৈর্ঘ প্রায় ৬০ হতে ৯০ সেমি, এবং ওজন ৬ হতে ৯ কেজি। পুরুষ উল্লুক আর মেয়ে উল্লুক আকারে প্রায় একই সমান হলেও এদের গাত্রবর্ণের মধ্যে বেশ পার্থক্য রয়েছে। খাদ্যের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফল ও ডুমুর খায় উল্লুক। তবে কচিপাতা, ফুল, পোকামাকড়ও এদের অনেক প্রিয়। সকালের দিকে হা-হু শব্দ করে দলগত অবস্থান জানান দেয় এরা। বাচ্চা দেয় দুই তিন বছর পরপর। শীত ঋতুতে। বাচ্চা উল্লুকের রঙ দুধের মতো সাদা। ছয় মাসের মধ্যেই রঙ বদলে হয়ে যায় কালো। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে (৬/৭ বছর) পুরুষ কালোই থেকে যায়। আর স্ত্রী উল্লুক হলুদাভ বর্ণ ধারণ করে। এদের আয়ু প্রায় ২৫ বছর।দেশের ১০ প্রজাতির বানরের মধ্যে ৮টিই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিপন্ন উল্লুক। তবে আশঙ্কার বিষয়- উপযুক্ত আশ্রয় ও খাদ্যাভাবে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় থাকা উল্লুকের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে এর সংখ্যা তিন হাজার থেকে কমে নেমে এসেছে ৩০০-এ। বন্যপ্রাণীবিদদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিপন্নপ্রায় উল্লুক বাংলাদেশে মহাবিপন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত। ক্রমশ এদের আবাসস্থল বিলুপ্ত হয়ে পড়ায় বানরপ্রজাতির মধ্যে সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে হুমকির সম্মুখীন। আর একবার ডাকাডাকি শুরু করলে বনের যে প্রান্তেই থাকুন না কেন টের না পেয়ে উপায় নেই। একটা উল্লুক হু-হা হু-হা করে ডাক দিলে তার সঙ্গে যোগ দেয় আরো কয়েকটা।
bdnews24
আকসুলাহটুহল
লেখক: সুশান্ত বর্মন ছবি: উইকিপিডিয়া ও ন্যাটজিও টিভি
মেক্সিকো শহরের পাশে একটি লেকের নাম সোচিলিকোহ (Xochimilco)। এই লেকের তলদেশে এক অদ্ভুত ধরণের প্রাণী পাওয়া যায়। AXOLOTL নামের এই প্রাণীটি দেখতে কিছুটা উদ্ভট। এই নামের উচ্চারণ ACK-Suh-LAH-tuhl, এটা এক ধরণের দুর্লভ উভচর প্রাণী। গিরিগিটি সদৃশ এই প্রাণিটি লম্বায় সাধারণত ৬-৮ ইঞ্চি। কিন্তু ১ ফুটেরও বেশি দৈর্ঘ্যের প্রাণী দেখা গেছে। গায়ের রঙ সাধারণত কালো বা গাঢ় বাদামী। কিন্তু সাদা বা এলবিনো হওয়াটা এদের জন্য বিরল নয়।এই আকসুহলাটুহল এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল তার অদ্ভুত পাখনা। মোটা মাথার ঠিক পিছন থেকে বের হওয়া অতিরিক্ত পাখনাগুলো প্রায় তার নিজ শরীরের সমান বড়।
এরা প্রধানত: সোচিলিকোহ লেকেই বাস করে। অন্যান্য লেকে কদাচিৎ তাদেরকে চোখে পড়ে। জলের গভীরে এদের বাস করা পছন্দ, কিন্তু জলের কিনারেও এরা মাঝেমধ্যে বেড়াতে আসে। জীবনকাল এদের কম নয়। প্রায় ১৫ বৎসর বাছে এক একজন। খাদ্য হিসেবে এদের প্রধান পছন্দ বিভিন্ন রকমের শামুক, কেঁচো, বিভিন্ন পোকার লার্ভা, মাছের পোনা ইত্যাদি। এরা নিজেরা যেমন শিকার করে বেঁচে থাকে তেমনি এরা নিজেরাও বিভিন্ন মাংশাসী প্রাণীর শিকার হয়ে যায়। বড় মাছ, বক এদের অন্যতম শত্রু। তবে মানু্ষও এদের সাথে শত্রুতা করতে কম যায় না।
আকসুলাহটুহল এর সংখ্যা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ মানুষ। ভিন্নরকম শারীরিক বৈশিষ্ট্যের কারণে একুরিয়াম মাছ হিসেবে এদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। খাদ্য হিসেবেও ভোজনরসিকদের কাছে এরা দারুণ সমাদৃত। এছাড়া লেকের জলের দূষণ এদের জীবনকাল কমিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে নাম বিপন্ন প্রাণিদের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
পাতাবহুল সাগরড্রাগন
চীন পুরাণ থেকে এদের নামকরণ করা হয়েছে। সাগরের অগভীর এলাকা যেখানে নানারকম শৈবালের জঙ্গল গড়ে ওঠে, সেখানে এদেরকে দেখতে পাওয়া যায়। ৫০ মিটারের বেশি গভীরে পাথর ও সাগরের তলদেশের ঘাসের ফাঁকে এরা বাস করে। গায়ের রং, শরীরে কিছু বর্ধিত অঙ্গ সবকিছুই শ্যাওলার মত। এদের শরীরে সবুজ, কমলা বা সোনালী আভার মত রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। আগাছার মত শরীরের পাতার মত অংশগুলো এদেরকে শ্যাওলার ফাঁকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করে। তাকিয়ে থাকলেও চোখে পড়ে না। শুধুমাত্র অনুসন্ধানী অভিজ্ঞ চোখ এদেরকে দেখতে পায়। কাঁপতে থাকা হালকা রঙের পাখনা ও এদিক ওদিক তাকানো চোখ দেখে এদেরকে চিহ্নিত করা যায়। এরা লম্বায় প্রায় ১৮ ইঞ্চি বা ৪৫ সে.মি. এর মত হয়।
সাগরঘোড়ার মত এই প্রাণীদের পুরুষরা বাচ্চা প্রস্ফুটনে সহায়তা করে। নারী প্রজাতিরা একবারে ১৫০ থেকে ২৫০টার মত উজ্জ্বল গোলাপী রঙের ডিম পাড়ে। নারী প্রজাতির প্রাণীরা এই ডিমগুলোকে লম্বা টিউব দিয়ে পুরুষ প্রজাতির লেজের নীচে মৌচাকের মত জায়গায় জমা করে। এই জায়গাটির নাম "তা দেয়ার জায়গা" (Brood Patch)। ডিমগুলো এখানে ৮ সপ্তাহের মত থাকে। বাচ্চা প্রস্ফুটনে সাহায্য করার জন্য পুরুষরা তাদের লেজ বারবার নড়াচড়া করে।
এদের কোন দাঁত কিংবা পাকস্থলী নেই। লম্বা ফানেলের মত টিউব দিয়ে এরা প্লাঙ্কটন, ছোট মাছ বা চিংড়ি খেয়ে থাকে। সাধারণত শান্ত, হালকা ঠাণ্ডা জলে এরা বাস করে। অস্ট্রেলিয়ার উপকূল এদের প্রধান বাসস্থান। দূষণের কারণে এদের জীবন বিপন্ন হবার কারণে অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৯৮২ সাল থেকে এদেরকে সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে রক্ষা করে আসছে।
এর ইংরেজী নাম Leafy Seadragon ও বৈজ্ঞানিক নাম Phycodurus eques ।
ভেন্তাস্টেগা
আদিমতম চতুষ্পদীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। প্রাণীটির করোটি ও অন্যান্য নিয়ামক নিদর্শন উদ্ধার করেছেন একদল গবেষক। তারা মনে করছেন, পৃথিবীর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে প্রাচীন চার পা-ওয়ালা প্রাণী। এ অনুসন্ধান মাছ থেকে ভূমিতে বিচরণশীল অগ্রসর প্রাণের বিকাশের বিবর্তনী প্রক্রিয়াকে বুঝতে সহায়তা করবে। জীবাশ্মটি ৩৬ কোটি ৫০ লাখ বছরের পুরনো। খবর এপি অনলাইনের।ভেন্টাস্টেগা কুরোনিকা নামের প্রাণীটির করোটি, স্কন্ধ এবং শ্রোণির অংশবিশেষ সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র লাতভিয়ায় পাওয়া গেছে। এটি জলচর প্রাণী। বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারের বৃহস্পতিবারের সংখ্যায় প্রকাশিত এক সমীক্ষা প্রতিবেদনে গবেষকরা তার কথা জানিয়েছেন।
গবেষকরা বলেন, ভেন্তাস্টেগা সম্ভবত তার ধারায় বিবর্তনের শেষ ধাপ; তারপরও একে খুঁজে পাওয়ায় মাছ থেকে চতুষ্পদীতে বিবর্তনের প্রক্রিয়াকে ভালো করে বোঝা যাবে। জলচর চতুষ্পদীরাই পরে উভচর, পাখি এবং স্তন্যপায়ীতে বিবর্তিত হয়েছে।
ভেন্তাস্টেগার চেয়েও পুরনো একটি প্রাণীর ফসিল এর আগে পাওয়া গেছে। তবে সেটি যত না চতুষ্পদী তার চেয়ে বেশি মাছ। ভেন্তাস্টেগা তার উল্টো, অর্থাৎ এটি যত না মাছ তার চেয়ে বেশি চতুষ্পদী। হিংস্র চেহারার ভেন্টাস্টেগা বাস করত অগভীর ঈষৎ নোনা পানিতে। এর দৈর্ঘ্য তিন থেকে চার ফুট। মাছ খেয়ে প্রাণ ধারণ করত। দূর থেকে দেখলে এটিকে ছোট্ট কুমিরের মতো দেখায়। তবে কাছ থেকে দেখলে এর পিঠে একটা পাখনার অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়।
গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান নিবন্ধক সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনী জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক পের আহলবার্গ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই বালুময় সৈকতে উঠে আসতে পারত। সাধারণত এটি কম স্রোতের খাড়ি এলাকায় ঘুরাফেরা করত এবং খাড়িতে আটকে পড়া মাছ শিকার করত।’ প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, পৃথিবীতে ডাইনোসরের আবির্ভাবের কমপক্ষে দশ কোটি বছর আগে ভেন্টাস্টেগা আবির্ভাব হয়েছিল।
আহলবার্গ জানান, চতুষ্পদীরা সরাসরি ভেন্টাস্টেগার উত্তর-পুরুষ, একথা বিজ্ঞানীরা মনে করেন না। তবে এটি চতুষ্পদী বর্গেরই সদস্য। এটি চতুষ্পদী বর্গের বিক্ষিপ্ত একটি শাখা, যা কোনো উত্তরসূরি না রেখেই কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে। সে সময় অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের আরো অনেক প্রাণী ছিল। বিবর্তনের ধারায় এরা মধ্য-পর্যায়ী প্রাণী। ভেন্টাস্টেগা বিবর্তনী জীববিজ্ঞানীদের প্রভূত উপকারে আসবে।
পুরো জীবাশ্মটি পাওয়া গেলে আরো ভালো হতো। আহলবার্গের দল ভেন্টাস্টেগার পা এবং বুড়ো আঙুল খুঁজে পায়নি। তবে তারা সার্বিক বিবেচনায় এ সিন্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এটি চতুষ্পদীই ছিল। বিজ্ঞানীরা এখন একটা বিষয়ে ভাবিত, কেন মাছের দেহে পা গজানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো?
প্রবোসিস বানর
এই বানর তার লম্বা, মাংশল ও অদ্ভুত নাকের জন্য বিখ্যাত। এদের গায়ের রঙ হালকা বাদামী। বিশ্বের মধ্যে একমাত্র বোর্ণিও দ্বীপের উপকূল অঞ্চলে এরা বাস করে। বিপন্ন প্রাণীর খাতায় নাম লিখিয়ে বর্তমানে এরা বিলুপ্তির পথে। বোর্ণিও দ্বীপে তিনটি দেশের অংশ আছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ব্রুনেই এর অধিকারভুক্ত বোর্ণিও দ্বীপের নদী কিংবা স্বাদু জলের আশেপাশে ম্যানগ্রোভ বন এবং নিম্নভূমিতে এরা বাস করতে পছন্দ করে। নদীর ৬০০ মিটারের বেশি দূরে এদেরকে কম দেখা যায়।Proboscis Monkey'র বৈজ্ঞানিক নাম Nasalis larvatus। এরা Monyet Belanda, Bekantan, Long-nosed Monkey নামেও পরিচিত।
এরা সাধারণত গাছে থাকে। তবে স্থান পরিবর্তন করার জন্য কখনও কখনও মাটিতে নেমে আসে। এদের সাধারণত সকালবেলায় খাবার গ্রহণ করে থাকে। দিনের বাকী অংশটা গাছের ডালে বিশ্রাম নিয়ে ও ঘুমিয়ে কাটায়। আবার সন্ধ্যা হবার পূর্ব মুহূর্তে খাবার গ্রহণ করা শুরু করে। এদের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন রকমের ফল, বীজ এবং গাছের কচি পাতা। এদের পাকস্থলী কয়েকভাবে বিভক্ত। হজমের কাজ চলার সময় এদের পাকস্থলী প্রচুর গ্যাস তৈরি করে। এর ফলে এদের পেট বেশ মোটা হয়। শরীরে বেশিরভাগ অংশই এদের এই পেট।
এরা ১১-৩২ জনের দলে দলভূক্ত থাকে। তবে কোন কোন দলে ৬০ থেকে ৮০টি বানরকে একসঙ্গে দেখা গেছে। এই বানরদের সবচাইতে দর্শণীয় অঙ্গ হল পুরুষ প্রজাতির নাক। নারী প্রজাতির নাক অবশ্য পুরুষদের মত বড় হয় না। তবে সাধারণ বানরদের চাইতে বড় হয়। পুরুষদের নাক এত বড় হয় যে তা মুখের উপর ঝুলে থাকে। কোন কিছু খাওয়ার সময় হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে হয়। যখন এরা রেগে যায় তখন এই নাক লাল হয়ে যায়।
এরকম অদ্ভূত নাক থাকার কারণ কি তা বিজ্ঞানীরা জানতে পারেননি। তবে কোন কোন প্রাণীবিজ্ঞানী ধারণা করেন এর সাথে হয়তো প্রজননের কোন সম্পর্ক থাকতে পারে। কারণ দেখা গেছে স্ত্রী প্রজাতির বানররা লম্বা নাকওয়ালা পুরুষদেরকে বেশি পছন্দ করে।
পুরুষ বানররা নারী বানরের চাইতে আকারে বড় হয়। গড়ে পুরুষরা লম্বায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি বা ৭২ সে.মি. পর্যন্ত হতে পারে। লেজ হতে পারে ৭৫ সে.মি. লম্বা এবং ওজন হতে পারে ২৪ কে.জি. (৫৩ পাউন্ড)। নারীরা হতে পারে ৬০ সে.মি. লম্বা এবং ১২ কে.জি. (২৬ পাউন্ড)।
এরা একবারে একটা বাচ্চার জন্ম দেয়। তাদের গর্ভধারণকাল ১৬৬ দিন। শিশুর মুখের রঙ গাঢ় নীল রঙ এবং শরীরের রঙ কাল হয়। বয়স ৩-৪ মাস হলে এই রঙ পরিবর্তন হয়ে বাদামী রঙের হয়ে যায়। মায়ের সাথে শিশু ১ বৎসর পর্যন্ত থাকে। এরা প্রায় ২০ বৎসর পর্যন্ত বাঁচে।
প্রবোসিস বানর মানুষকে এড়িয়ে চলে। বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি সহ বনের মধ্যে মানুষের যাতায়াত বৃদ্ধির ফলে এদের সংখ্য ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এদের প্রধান শত্রু মানুষ এবং ধূসর চিতাবাঘ। নদীর কুমিররাও এদের শত্রু। নদীতে সাধারণত প্রবোসিস বানররা নামে না। কিন্তু চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে বাচার জন্য যখন এরা নদীতে নামে তখন এত সাবধানে নদীতে সাতরায় যে জলে কোন আলোড়নের সৃষ্টি হয় না। কুমিরের হাত থেকে বাঁচার জন্য এরা খুব সাবধানে সাতার কাটতে পারে। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে নদীতে নামে। যদি কোন বানর কুমিরের আক্রমণের শিকার হয় তাহলে সবাই মিলে জলের মধ্যে লাফালাফি শুরু করে। ফলে কুমির ভয় পেয়ে যায়।
এরা নিজের খাবার নিজে সংগ্রহ করে খেতে পছন্দ করে। এরা বন্দী অবস্থায় খাদ্য গ্রহণ করে না। তাই এদেরকে চিড়িয়াখানায় দেখা যায় না। তবে এদের সংখ্যা আশংকাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে সিঙ্গাপুর এবং অস্ট্রেলিয়ার চিড়িয়াখানা এদেরকে লালন করার পরিকল্পনা করছে।
Writer: সুশান্ত বর্মন
সোনালী সিংহ ট্যামারিন
Golden Lion Tamarin বা সোনালী সিংহ ট্যামারিন হচ্ছে New World monkey পরিবারের এক ধরনের ছোট প্রজাতির বানর। এরা Marmoset বা Golden Marmoset নামে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে mico-leão নামে ডাকা হয়। এদের বাস দক্ষিণ মধ্য আমেরিকার কোস্টারিকা থেকে দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত। আমাজন নদীর মোহনা এবং বলিভিয়ার উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত এদের দেখা যায়। এদের গায়ের রঙ বিভিন্ন রঙের হতে পারে।কালো, গাঢ় কালো, কালোর বিভিন্ন মিশ্রণ, বাদামী ও সাদা বিভিন্ন রঙের ট্যামারিন দেখা গেছে। বিভিন্ন প্রজাতির লম্বা লম্বা গোঁফ আছে। ট্যামারিন গোষ্ঠির সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রজাতি হল সোনালী সিংহ ট্যামারি।এই ট্যামারিনের সমস্ত গায়ে হালকা কমলা থেকে সোনালী রঙের লোম রয়েছে। মাথার গাঢ় সোনালী চুলগুলো বেশ লম্বা। পায়ে গাছের ডাল আঁকড়ে ধরার উপযোগী লম্বা শক্ত নখ রয়েছে। সিংহের মত গলাভরা কেশর আছে বলে এদেরকে সিংহ ট্যামারিন বলা হয়।
কাঠবেড়ালীর চেয়ে একটু বড় এই ট্যামারিনদের শরীরের আকার প্রায় ৩৩৫ মিলিমিটার (১৩.২ ইঞ্চি) লম্বা আর বাহারী লেজটা লম্বায় ৪০০ মি.মি. (১৬ ইঞ্চি)। পুরুষরা ওজনে প্রায় ৭০০ গ্রাম। বন্য অবস্থায় অবস্থায় অবশ্য এর চাইতে বেশি ওজনের ট্যামারিন পাওয়া গেছে। সাধারণত স্ত্রী ট্যামারিন ওজনে ৫৫০ গ্রাম হয়, কিন্তু গর্ভবতীদের ওজন ৭৯০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
বর্তমানে একমাত্র ব্রাজিলের রিও ডি জেনেরিও (Rio de Janeiro) প্রদেশের এক সংরক্ষিত বনভূমিতে এদেরকে প্রাকৃতিক অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এরা প্রথম বিপন্ন হিসেবে ১৯৮২ সালে তালিকাভূক্ত হয়। ১৯৯৬ সালের দিকে এরা আশংকাজনকভাবে বিলুপ্তপ্রায় অবস্থায় পৌঁছে যায়। একসময় আটলান্টিকের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যদেশ পর্যন্ত চষে বেড়াত। এই এলাকার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ছিল এদের বাসস্থান। কিন্তু নির্বিচার গাছ কাটার ফলে এদের বিচরণক্ষেত্র কমে গেছে। কৃষি ও মানুষের বাসস্থানের জন্য তাদের প্রিয় বাসভূমির ৯০% ভাগেরও বেশি এলাকার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে এদের প্রাকৃতিক বাসভূমির মাত্র ২% ভাগ অবশিষ্ট আছে।
এরা সাধারণতঃ সর্বভূক। ফল, গাছের শরীরের বিভিন্ন অংশ, ফুল, মাকড়সা, পোকা, গিরগিটি, ছোট ছোট প্রাণী, পাখির ডিম কোন কিছুতে এদের অরুচি নেই। এরা যে বুদ্ধিমান তা এদের খাদ্য সংগ্রহের আর একটি বিশেষ ঘটনা দেখে বোঝা যায়। এরা গাছের শরীরে লম্বা নখ দিয়ে আঁচড় কাটে। এই ক্ষতস্থান দিয়ে ঝরে পরা রস এবং আঠা এরা পরমানন্দে খাবার হিসেবে গ্রহণ করে। একটা মজার বিষয় পর্যবেক্ষণে লক্ষ করা গেছে। এক এক প্রজাতির ট্যামারিন তাদের খাদ্যাভাসের বৈচিত্র্যের কারণে নির্দিষ্ট এক জায়গায় বাস করে। তাই একটি নির্দিষ্ট এলাকায় একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির ট্যামারিন বাস করে। কোন একটি জায়গায় একটির বেশি প্রজাতিকে একত্রে দেখতে পাওয়া যায় না।
ঈগল, সাপ, জাগুয়ার সহ বিভিন্ন মাংশাসী প্রাণী এদের অন্যতম শত্রু।
ট্যামারিনরা উঁচু উঁচু গাছের মাথায় বাস করতে পছন্দ করে। সূর্যের প্রখর তাপের প্রতি এরা খুব সংবেদনশীল, তাই সূর্যের আলো থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এরা ঘন হয়ে জন্মানো পাতার আড়ালে বসে বিশ্রাম নেয়। এরা দলবদ্ধভাবে বাস করে। এক একটা দলে ৪ থেকে ১৫ জনকে দেখা যায়। এক একটা দল ২৫ থেকে ১০০ একর পর্যন্ত জায়গায় নিজেদের খাদ্য খুঁজে বেড়ায়। পরস্পরের মধ্যে বিভিন্ন রকম শব্দ করে এরা পারস্পরিক যোগাযোগ রক্ষা করে। এরা সাধারণত আক্রমণাত্মক নয়।
বনের ছোট ছোট জলাশয়ে ভেসে বেড়ানো পোকা খাওয়ার জন্য এরা মাটিতে নামে। সারাদিন এরা খাবারের সন্ধানে নিজেদের এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নিজের বাসায় ফেরে। বড় বড় গাছের ভাঙা কোটরে এরা বাস করে। শরীর থেকে ঝরে পড়া অসংখ্য লোম কোটরের ভিতরটা মোড়ানো থাকে।
লায়ন ট্যামারিনের পূর্ণবয়স্ক হতে লাগে ২ থেকে ৩ বৎসর। পুরুষ প্রজাতি প্রজননক্ষম হয় ১২-১৮ মাসের মধ্যে। কিন্তু নারীরা ২৪ মাসের আগে প্রজননক্ষম হয় না। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস এদের প্রজনন ঋতু। ১২৬ থেকে ১৩০ দিনের গর্ভধারণ শেষে এরা একসাথে দুইটা বাচ্চার জন্ম দেয় (বেশিরভাগ সময়)। বৎসরে দুইবার এরা দুইটি করে বাচ্চা প্রসব করে। ৯০ দিনের মধ্যে শাবকরা নিজে নিজে খাদ্য গ্রহণে সক্ষম হয়ে ওঠে। জন্মের তিন সপ্তাহ পর থেকে বাচ্চা ট্যামারিনের লালন পালনের ভার পুরুষের উপর বর্তায়।
সাধারণত এদের আয়ু ৮-১৫ বৎসর। তবে চিড়িয়াখানায় এদেরকে ১৮-২৪ বৎসর পর্যন্ত বাঁচতে দেখা গেছে।
ব্যাঙ
ব্যাঙ উভচর শ্রেণীর অ্যানিউরা (লেজহীন, অ্যান=নাই, ইউরো=লেজ) বর্গের মেরুদণ্ডী প্রাণী। প্রাণীজগতে আস্ফিবিয়া শ্রেণীর অন্তর্গত মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কিছু প্রাণীকে উভচর আখ্যা দেওয়া হয়। প্রথমদিকে পানি তারপর হুলই এসব প্রাণীর আবাস হওয়ায় এদের উভচর বলা হয়। জলে ফুলকার সাহায্যে আর স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে এরা শ্বাসকার্য চালায়। উভচর প্রাণীর মধ্যে ব্যাঙ হলো শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এদের লাফ (দেহের আয়তনের তুলনায় বিশ্বরেকর্ড) ও বর্ষাকালে (প্রজনন ঋতু) ঘ্যাঙর্ ঘ্যাঙ্ ডাক (প্রণয় সম্ভাষণ) বিখ্যাত।ব্যাঙের সংস্কৃত নাম দর্দুর যা থেকে বাংলা নাম দাদুর বা দাদুরী এসেছে। আরেক নাম ভেক।অস্ট্রেলিয়ার গাছে বাসকারী সবুজ ব্যাঙ (Litoria caerulea লিতোরিয়া ক্যারুলেয়া) প্রথম সংরক্ষিত ভুক্তি রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নীল হয়ে যাওয়ায় নাম ভুল করে হয় "ক্যারুলেয়া" অর্থাৎ নীল।
এছাড়াও আছে আছে সোনা ব্যাঙ, কোণা ব্যাঙ, ভেঁপু ব্যাঙ, পটকা ব্যাঙ, কটকটি ব্যাঙ, পানা ব্যাঙ, ঘেচু ব্যাঙ, পাতা ব্যাঙ, ঝিঁঝিঁ ব্যাঙ, চীনা ব্যাঙ, ঘেটু ব্যাঙ এবং আরো অনেক রকম ব্যাঙ। এদের কারো শরীর লম্বাটে, কেউ খাটো, কেউ ছোট্ট, কেউ মোটা, কেউ বিশাল দেহী, কারো পেট বেলুনের মত ফুলা। ব্যাঙচিগুলো লেজওয়ালা।
তবে সময় যত গড়াচ্ছে দেশের ব্যাঙের সংখ্যা তত কমছে। প্রাণিবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মোট ৩৮ প্রজাতির ব্যাঙ এখন টিকে আছে তার মধ্যে চট্টগ্রামে ২৫ প্রজাতির, সুন্দরবনে আট প্রজাতির ও বাকিগুলো আছে দেশের সর্বত্র। ডোবা-নালার ক্ষুদ্রাকৃতির কীট-পতঙ্গ, ফসলের ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খেয়ে ব্যাঙ প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করে। জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার ক্রমাগত বাড়তে থাকায় অতিপরিচিত সোনা ব্যাঙের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে আসছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিবিদেরা।সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জেনেছেন, প্রকৃতির এই নিরীহ প্রাণীটি ভূমিকম্প ও পাহাড় ধসের পূর্বাভাস দিতে পারে। বাঁচাতে পারে লাখো মানুষের জীবন। যুক্তরাজ্যের ওপেন ইউনিভার্সিটির প্রাণিবিদ্যার অধ্যাপক রাসেল গ্রান্ট সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখেছেন, কুনোব্যাঙ ভূমিকম্পের বিষয়টি আগেভাগে জানতে পারে।
শীতল রক্তবিশিষ্ট হওয়ায় কুনোব্যাঙের বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে সঙ্গে এদের দেহের তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটে। মাটি ও পানির যেকোনো পরিবর্তন ওরা আগেভাগে টের পায়। বিশেষ করে তীব্র বৃষ্টিপাত হলে ব্যাঙ জোরে শব্দ করে মানুষকে সচেতন করতে পারে। দেশের পার্বত্য জেলাগুলোতে ব্যাঙের ডাককে অনুসরণ করে ভূমি ধসের পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব বলে তিনি মত দেন। তাই ব্যাঙ রক্ষার সরকারের জোরদার পদক্ষেপ দরকার।
লালচোখো গেছো ব্যাঙ
লালচোখো গেছো ব্যাঙ আকারে তেমন বড় নয় তবে অন্য সব গেছো ব্যাঙের চেয়ে বড়। গড় দৈর্ঘ্য দুই থেকে তিন ইঞ্চি। পুরুষ-ব্যাঙের চেয়ে স্ত্রী-ব্যাঙ সামান্য বড় হয়ে থাকে। আমেরিকার মধ্যাঞ্চল ও মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের বৃষ্টি-অরণ্যের গাছগুলোতে এরা বাস করে। লাল এক জোড়া ড্যাবডেবে চোখ ও সবুজ গা ওদের দিয়েছে সুন্দর রূপ। শরীরে নীল, হালকা হলুদ ও কমলা রঙের ছোপও আছে। রঙিন ব্যাঙেরা সাধারণত বিষাক্ত হয়ে থাকে; কিন্তু লালচোখোরা বিষাক্ত নয়।সবুজ রং ওদের গাছের সবুজ পাতার আড়ালে গা ঢাকা দিতে কাজে লাগে। এতে একদিকে যেমন সাপ ও শিকারি পাখির মতো শত্রুদের ধোঁকা দেওয়া যায়, তেমনি আবার ছোটখাটো পোকামাকড় শিকারেও এ ছদ্মবেশ কাজে দেয়। গেছো ব্যাঙ বলেই গাছ বাওয়া বা যেকোনো উঁচু জায়গায় উঠতে ওরা খুব পারদর্শী। এ জন্য এদের পাগুলো বিশেষভাবে গঠিত।
লালচোখো গেছো ব্যাঙ নিশাচর। দিনের বেলা এরা পাতার আড়ালে গা ঢাকা দিয়ে থাকে; রাতে খাবার খুঁজতে বের হয়। ডিম পাড়ার সময় হলে স্ত্রী-গেছো ব্যাঙ পাতার ওপর একগাদা ডিম পাড়ে, তবে গাছের ডালসহ পাতাটি ঝুলে থাকতে হবে কোনো পুকুর বা জলাশয়ের ওপর। ডিমের ভেতর ব্যাঙাচি বড় হতে হতে একসময় মোচড় খেতে শুরু করে। এতে ডিমের নরম আবরণ ছিঁড়ে ওরা পানিতে গিয়ে পড়ে। পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত ব্যাঙাচিগুলো ওই পানিতেই থাকে।
কটকটি ব্যাঙ
কটকটি ব্যাঙ জীবনের প্রথম পর্যায়ে পানিতে ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় স্থলে বসবাস করে। দেহ ত্বক সাধারণত আইশবিহীন, মসৃণ ও গ্রন্থসমৃদ্ধ। পনিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়। চামড়া সিক্ত ও অনাবৃত। পা ২ জোড়া, অগ্রপদে ৪টি ও পশ্পাদপদে ৫ নখরহীন আঙ্গুলযুক্ত থাকে।এরা বহ্যিক নিষেক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন ঘটিয়ে ডিম পারে। লার্ভা দশা থেকে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিপূর্ণ রূপ নেয়।একে ইরেজীতে Skittering frog বা Indian Skipper frog বলে আর বৈজ্ঞানিক নাম Euphlyctis cyanophlyctis।গেছো ব্যাঙ
নানা প্রজাতির ব্যাঙের মধ্যে গেছো ব্যাঙ উড়তে পারে মানে বেশ লাফিয়ে অনেক দূর যেতে পারে।এই গেছো ব্যাঙেরা থাকে ঝোপে-ঝাড়ে, বনে-বাদাড়ে ও গাছে। অন্যান্য ব্যাঙের চাইতে দেখতে এরা অবশ্য একটু কমই বেঢপ আকৃতির হয়। এদের হাত-পা একটু বেশীই লম্বা লম্বা ধরনের আর সেই লম্বা লম্বা হাত-পায়ের সাহায্যে সে ধাক্কা দিয়ে উঠে পড়ে শূণ্যে।বাতাসে ভেসে সে এভাবে পাড়ি দিতে পারে অনেকটা পথ। তারপর আবার যেখানে খুশি সেখানে নেমে আসতে পারে নির্বিঘ্নে। আর এর জন্য তার পায়ের নিচে থাকে বিশেষ গ্রন্থি। যার মাধ্যমে সে অনেকটা টিকটিকির মতো যে কোন জায়গা বেয়ে নেমে উঠে যেতে পারে। পারে আকাশ থেকে নেমে আসার সময় গাছের গায়ে লেপ্টে যেতেও।
সাধারণ গেছো ব্যাঙ
এর ডিম পাড়ার সময় পানির ধারে এমন গাছ বেছে নেয় যার কিছুকিছু পানির ওপর বরাবর থাকে। এরা এদের ডিমগুলোকে একরকম আঠালো নিঃসরণের সাহায্যে ঠিক পানির উপরে পাতার গায়ে আটকে দেয়। ডিম ফুটে ব্যাঙাচি বের হলে ব্যাঙাচিগুলো সরাসরি পানিতে পড়ে যায় ফলে ব্যাঙাচিগুলোর বেঁচে থাকতে কোনো অসুবিধা হয় না।কিউবিয়ান গেছো ব্যাঙ
গেছো ব্যাঙের থাবা থেকে সম্প্রতি ভারতের গবেষকরা এক ধরনের অতি শক্তিশালী এবং বারবার ব্যবহারযোগ্য আঠা আবিষ্কার করেছেন।গেছো ব্যাংর থাবার মশৃণ হস্তু রেখা" রয়েছে বলে আঠার শক্তির দুবর্লতা এড়ানো সম্ভব হয়। জানা গেছে গেছো ব্যাংএর থাবার ওপর গবেষণা করে আবিষ্কৃত এই নতুন ধরনের আঠার শক্তি আগের সাধারণ আঠার শক্তির চাইতে ৩০ গুণ বেশি। উপরন্তু এ ধরনের আঠা বারবার ব্যবহার করা ও যায়।এর ইংরেজী নাম Tyler's Tree Frog বা Tree Frog ও বৈজ্ঞানিক নাম Litoria tyleri।
ইউরোপিয়ান গেছো ব্যাঙ
সোনা ব্যাঙ
সোনা (কোলা) ব্যাঙ আর্দ্র জায়গায় বা জলে বেশী থাকে। একে ইরেজীতে Golden toad, Monteverde golden toad, the Monte Verde toad, Alajuela toad, orange toad ইত্যাদি নানা নামে ডাকা হয় আর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo periglenes বা Rana tigrina।এরা লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, মশা, মাছি ও নানা রকম পোকা মাকর খেয়ে বেচে থাকে। জীবনের প্রথম পর্যায়ে পানিতে ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় স্থলে বসবাস করে। দেহ ত্বক সাধারণত আইশবিহীন, মসৃণ ও গ্রন্থসমৃদ্ধ। পনিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়। চামড়া সিক্ত ও অনাবৃত। পা ২ জোড়া, অগ্রপদে ৪টি ও পশ্পাদপদে ৫ নখরহীন আঙ্গুলযুক্ত থাকে।এরা বহ্যিক নিষেক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন ঘটিয়ে ডিম পারে। লার্ভা দশা থেকে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিপূর্ণ রূপ নেয়।
কুনো ব্যাঙ
কুনো ব্যাঙ শুকনো বা স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বেশী থাকে। প্রধাণত সুন্দরবনে এদের বেশী দেখা যায়। এরা লাল পিঁপড়া, কালো পিঁপড়া, মশা, মাছি ও নানা রকম পোকা মাকর খেয়ে বেচে থাকে। একে ইরেজীতে Toad বলে আর বৈজ্ঞানিক নাম Bufo melanostictus।জীবনের প্রথম পর্যায়ে পানিতে ও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় স্থলে বসবাস করে। দেহ ত্বক সাধারণত আইশবিহীন, মসৃণ ও গ্রন্থসমৃদ্ধ। পনিতে ফুলকার সাহায্যে ও স্থলে ফুসফুসের সাহায্যে শ্বসন চালায়। চামড়া সিক্ত ও অনাবৃত। পা ২ জোড়া, অগ্রপদে ৪টি ও পশ্পাদপদে ৫ নখরহীন আঙ্গুলযুক্ত থাকে।
এরা বহ্যিক নিষেক ক্রিয়ার মাধ্যমে প্রজনন ঘটিয়ে ডিম পারে। লার্ভা দশা থেকে রূপান্তরের মাধ্যমে পরিপূর্ণ রূপ নেয়।
সেরাটোফাইরিন ব্যাঙ
সেরাটোফাইরিন ব্যাঙ (cerato firin frogs) আক্রমণাত্মক মনোভঙ্গীর ব্যাঙ।অনেকক্ষণ ধরে এক জায়গায় ঘাপটি মেরে লুকিয়ে থেকে হঠাৎ করে শিকারের ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ে।আকারে ছোট, তবে চোয়াল বড়।
দৈত্য ব্যাঙ
দৈতাকৃতিরএই ব্যাঙের ইংরেজী নাম goliath frog ও বৈজ্ঞানিক নাম Conraua goliath । এরা আকারে ১৩ ইঞ্চি বা ৩৩ সেমি লম্বা হয় আর ওজন প্রায় ৩ কেজি(৮ পাউন্ড) মত। এরা কাঁকরা, পোকা মাকড়, ছোট ব্যাঙ খেয়ে থাকে। ১৫ বছরের উপরে বাঁচে।West Africa'র Cameroon ও Equatorial Guinea এলাকার নদীর চরের বালুতে ঘাপটি মেরে থাকে।কাঁকড়াভুক ব্যাঙ
কাঁকড়াভুক ব্যাঙ বা ম্যানগ্রোভ ব্যাঙ সুন্দরবনের একটি সাধারণ ব্যাঙ। কিন্তু কোলা ও কটকটি ব্যাঙের সঙ্গে এদের খুব বেশি সাদৃশ্য থাকায় এত দিন আমরা তাদের পরিচিতি ঠিকমতো জানতে পারিনি। ব্যাঙটি আমাদের কাছে রহস্যময় হিসেবেই পরিচিত ছিল। এরা মূলত কাঁকড়া (crab) খেয়ে থাকে। cancri অর্থ কাঁকড়া (crab) আর vorus মানে খাওয়া (feeder, eating)। এদের খাদ্যাভ্যাস থেকেই এ ধরনের নামকরণ। তবে ম্যানগ্রোভ অঞ্চলের বাইরে থাকার সময় এটি পতঙ্গ ও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে থাকে। মনুষ্যবসতির কাছে স্বাদু পানির পরিবেশেও এদের বাস করতে দেখা যায়।কাঁকড়াভুক ব্যাঙের সঙ্গে আমাদের দেশে সচরাচর দেখা পাওয়া কোলা বা সোনা ব্যাঙ ও কটকটি ব্যাঙের সাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু এরা উপকূলীয় এলাকা থেকে দূরে বাস করে না। চোখের পেছন থেকে উভয় পাশে টানা শৈলশিরা বা উত্তোলিত রেখা এই ব্যাঙের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। উপরন্তু পিঠের ওপর শৈলশিরা বা উত্তোলিত রেখা একটানা নয়, ভঙ্গুর। চোখের সামনে থেকে নাকের ছিদ্র পর্যন্ত পারতপক্ষে কোনো রেখা নেই, যা সহযোগী প্রজাতিতে আছে। এ ছাড়া চঞ্চু থেকে দেহের শেষ ভাগ পর্যন্ত সচরাচর কোনো হালকা ডোরা দেখা যায় না। এরা ছয় থেকে আট সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিজ্ঞানীদের মতে, পুরুষ-ব্যাঙের চেয়ে স্ত্রী-ব্যাঙ বড় হয়। এই ব্যাঙ আরেকটি অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। আর তা হলো, এরা শরীরে অতিমাত্রায় ইউরিয়া জমা রাখতে পারে। এ কারণে এরা প্রায় সাগরজলের সমপরিমাণ লবণাক্ততা সহনক্ষম। তবে এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় কেবল স্বাদু পানিতে। বর্ষাকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশে সাময়িক কিছু ডোবা তৈরি হয়। এসব ডোবার মধ্যে এদের ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস থেকে প্রকাশিত Knut Schmidt-Nielsen তাঁর প্রাণীর শারীরবৃত্ত: অভিযোজন ও পরিবেশ গ্রন্থে বলছেন, পূর্ণ বয়সী ব্যাঙের চেয়ে ব্যাঙাচির লবণাক্ততা সহনক্ষমতা বেশি। এই ব্যাঙ যে পরিমাণ ঘন লোনাপানিতে বাস করে, দেশের অন্য কোনো ব্যাঙ তা পারে না।
এগুলো কাঁকড়া খাওয়া (Crab-eating) ব্যাঙ বা ম্যানগ্রোভ ব্যাঙ নামে পরিচিত।বৈজ্ঞানিক নাম Fejervarya cancrivora। আগে এর নাম ছিল Rana cancrivora বা Limnonetes (Hoplobatrachus) cancrivora। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে অধ্যাপক দত্ত উড়িষ্যার উপকূলে প্রথমবারের মতো এমন ব্যাঙের প্রজাতির সন্ধান পান।
আর আমাদের দেশে ব্যাঙের ৩৫টি প্রজাতির সঙ্গে আরেকটি নতুন প্রজাতি হিসেবে তা যুক্ত হলো।
মূল লেখা: রেজা খান (প্রথম আলো)
নরকের শয়তান ব্যাঙ
৭৫ টুকরো জীবাস্মকে একবছর ধরে জোড়া দিয়ে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যাঙের বিশেষজ্ঞ সুজান ইভানস ২০০৭ সালে এই ব্যাঙের ফসিলের সন্ধান পান। তার ভাষ্যমতে এই ব্যাঙের ফসিলের বয়স ৭০ মিলিয়ন বছর। যা আকারে বিচ বলের সমান, ১৬ ইঞ্চি( ৪১ সে.মি.) উচু এবং ৪.৫ কি.গ্রা. (১০ পাউন্ড) ওজনের। এরা ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ব্যাঙ।
এই ব্যাঙের কয়েকটি নাম আছে ইংরেজীতে Beelzebufo, Devil Frog, Devil Toad, The Frog From Hell আর বৈজ্ঞানিক নাম Beelzebufo ampinga। ধারনা করা হয় মাদাগাস্কার ছিল এদের আবাসভূমি।
এরা খুবই আক্রমণাত্মকম, চোয়াল বড় ও শক্ত যাতে শিকার সহজে ধরা যায় ও কাবু করা যায়।
সাঁতারু ডাইনোসর
Swimming dinosaurs বা সাঁতারু ডাইনোসরদের মধ্যে পাখীর প্রাথমিক কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মনে করা হয় পাখি যে প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়েছে এরাও সেই একই প্রজাতির অংশ। দানবীয় মাংসাশী ডাইনোসর টি-রেক্স (টাইরানোসরাস রেক্স) থেকে এদের বৈশিষ্ট্য একেবারে অন্যরকম।বিজ্ঞানীরা ওয়াইওমিং (Wyoming) এ নতুন ধরণের ডাইনোসরের পায়ের ছাপ আবিষ্কার করেছে। ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ বৎসর আগে এরা নদী বা সাগরে সাঁতার কেটে বেড়াত আর বেশিরভাগ সময় মাছ খেয়ে জীবনধারণ করত।তবে মাংসও খেতো।
এদের উচ্চতা ৬ ফুট ছিল। বর্তমানকালের উটপাখির সমান।
Subscribe to:
Comments
(
Atom
)







































.jpg)









No comments :
Post a Comment