প্রাণী রাজ্য

Animals Life in Bengali Description

বাঁশ ইঁদুর

ছোট ছোট পা নাদুস নুদুস শরীর , চলন ভারী তবুয় এর নাম দ্রুত বর্ধনশীল লম্বা চিকন বাঁশের সাথে মিলিয়ে রাখা “বাঁশ ইঁদুর”(Lesser Bamboo Rat)।
লালচে বাদামী দেহের নিচের দিকে সাদা । মাথা সহ দেহের মাপ ১৮ থেকে ২০ শি এম । গলা নাই বলেই চলে, মাথা ও কাঁধের সাথে মেলান। সামনের দাঁত মুখের বাহিরে বেরিয়ে থাকে। পায়ের নখ বড়। লেজ লোমশ মাঝারী আকারের।

বসবাসের জন্য বাঁশ ইঁদুর বাঁশ বন পছন্দ করে বলে এর নাম বাঁশ ইঁদুর। উঁচু পাহাড়ি বাঁশ বনে এদের দেখা যায়। ভোর ও বিকেলে বাঁশ ইঁদুর খাদ্যর সন্ধানে ঘোরাফেরা করে। এরা মাটির নিচে বহুকক্ষ বিশিষ্ট গর্তে বাস করে। বাঁশ ইঁদুরের চলাফেরা ধীরগতির। বাঁশের শেকড় , বাঁশের কুরী, ঘাস বাঁশ ইঁদুরের প্রধান খাদ্য। বর্ষার আর্দ্র দিনে বাঁশ ইঁদুরের প্রজনন হয়। ৬ থেকে ৭ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ১ থেকে ৫ টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে বাঁশ ইঁদুর।
বাঁশ ইঁদুর বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়ি বাঁশ বনে বাস করে। বাংলাদেশে বাস ইঁদুরের কোন পরিসংখ্যান হয়নি তাই এদের সঠিক অবস্থান জানা যায়নি।
আবাস ধ্বংস ও মাংসের জন্য শিকারের ফলে বাংলাদেশের অন্যান্য বন্যপ্রাণীর মতো এরাও বিপন্ন।

লেখা – ঋজু আজম

পিগমি জারবোয়া

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী পিগমি জারবোয়া। ইঁদুর শ্রেণীর এই ছোট্ট প্রাণীটির রয়েছে দারুণ একটি গুণ। এরা লাফাতে পারে প্রায় ৯ ফিট উচ্চতায়!

মরু অঞ্চলের এই চারপেয়ে প্রাণীটির লেজটা বেশ লম্বা। লাফানোর জন্য এরা বালু অঞ্চলকেই বেশি পছন্দ করে। অনেকটা ইঁদুরের মতো দেখতে জারবোয়া পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে দেখা যায় বেশি। বিশ্বের অন্য কোনো স্থানে দেখা যায় খুবই কম।

অবাক হলেও সত্য এরা গড়ে মাত্র এক ইঞ্চি লম্বা হয়। আর  তাদের আকারের চেয়ে লম্বা লেজটি ব্যবহার করে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে।

হাতুড়ি মাথা

গ্রীষ্মপ্রধান বনাঞ্চলের উষ্ণ ও আর্দ্র মাটিতে পাওয়া বিভিন্ন ধরনের স্থলজ ‘ট্রাইক্লাড প্লানারিয়ানদের’ মধ্যে সবচেয়ে বড়টি হলো বাইপেলিয়াম। মাস কয়েক পূর্বে সকাল বেলায় সামান্য বৃষ্টির পর রাজশাহীর পদ্মা নদীর তীর ঘেঁষে রাস্তায় হাঁটার সময় রাস্তার পাশের তৃণভূমি থেকে বেরিয়ে আসা একটি হাতুড়ি মাথা কীট চোখে পড়ে। এ প্রজাতিটিই হলো কৃষকবন্ধু, প্রকৃতির লাঙ্গল কেঁচো শিকারি বাইপেলিয়াম।
যেকোন কেঁচো চাষি, ও কৃষকের জন্য আতঙ্কের কীট বাইপেলিয়াম। এটি প্রাণিজগতের ‘প্লাটিহেলমিনথেস’ পর্বের ‘টারবেলারিয়া’ শ্রেণী, ‘ট্রাইক্লাডিডা’ বর্গ ও ‘বাইপেলিডি’ গোত্রের অন্তর্গত একটি প্রজাতি।

হাইড্রার মতই বাইপেলিয়াম তার খন্ডিত দেহ থেকে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। দিনের মধ্যেই এরা একটি কেঁচো খামারের সকল কেঁচো খেয়ে ফেলতে সক্ষম। ১৮৭৮ সালে লন্ডনের নিকটবর্তী কিউ বোটানিক্যাল গার্ডেনের গ্রীণ হাউজে বাইপেলিয়াম কিউইনজি প্রজাতিটি প্রথম শনাক্ত করা হয়।
উষ্ণ জলবায়ুতে বাইপেলিয়াম কিউইনজির বিস্তৃতি পরিলক্ষিত হয়। প্রাকৃতিকভাবে ভিয়েতনাম থেকে কম্পুচিয়া (কম্বোডিয়া) পর্যন্ত এর বিস্তার রয়েছে। তবে এটিকে ইন্দো-মালায়ান অঞ্চলের একটি নিজস্ব প্রজাতি হিসেবেই মনে করা হয়। মানুষের কৃষি কর্মকাণ্ড বিস্তারের মাধ্যমে এটি বর্তমানে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়েছে। বাংলাদেশেও এর বাহুল্য লক্ষ্যণীয়।

দিনের বেলায় এ-প্লানারিয়ানগুলো আলোর বিপরীতে অবস্থান নেয়। তাদের স্বাভাবিক জীবন পরিচালনায় প্রয়োজন উচ্চ-আর্দ্রতাবিশিষ্ট জলবায়ু। আর তাই উচ্চ-আর্দ্রতাবিশিষ্ট দিন যেমন বৃষ্টির দিনেই এদের উপস্থিতি থাকে বেশি। অধিক বৃষ্টিপাতের পর কোনো পাথর, কাঠের গুঁড়ি, ঝোপ-ঝাড়, আবর্জনা বা ভূপৃষ্ঠের ঠিক নিচেই এদের বিচরণ দেখা যায়। তবে শুষ্ক মৌমুমেও প্রাণীটি দেহের ওজনের ৪৫ শতাংশের অধিক পরিমাণ পানি না হারানো পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে বসন্ত ও বর্ষায় এধরনের স্থলজ প্লানারিয়ানদের আধিক্য ঘটে।

বাইপেলিয়াম প্রাণীটির দেহের ব্যাস কেঁচোর দেহের মতোই। তবে এরা গড়ে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের দেহ নরম, দ্বিপার্শ্বীয় প্রতিসম, সিলোম বিহীন, অঙ্কীয়-পৃষ্ঠীয়ভাবে চ্যাপ্টা। মাথাটি দেহের চেয়ে প্রশস্ত ও দেহের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় অনেকটা হাতুড়ির মত মনে হয়। দেহ সর্বদা প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। এদের মাথায় ও দেহপার্শ্বে অনেকগুলো চক্ষুবিন্দু রয়েছে। কাঁধের নিকট বেগুনি, কালো, হলুদ, জলপাই বা বাদামি বর্ণের ডোরা থাকে। দেহের অঙ্কীয় দিকে মধ্য বরাবর লম্বালম্বিভাবে থাকে ক্রিপিং সোল, যা দিয়ে এরা হামাগুড়ি দিতে সক্ষম হয়। এদের কোনো শ্বসন বা পরিবহন তন্ত্র নেই। নেই কোনো কঙ্কাল কিংবা পায়ুপথ। দেহের মাঝামাঝি অঙ্কীয় দিকে অবস্থিত একটি মুখছিদ্রই এদের মুখ ও পায়ুর কাজ করে। এদের অন্ত্র তিনটি শাখায় বিভক্ত। দেহে বৃত্তাকার ও আনুদৈর্ঘ্যিক পেশী বিন্যাস লক্ষ্যনীয়। সেরেব্রাল গ্যাংগ্লিয়নটি মস্তিষ্কের কাজ করে। স্নায়ুতন্ত্রটি মই আকৃতির। আর রেচনকার্য সম্পাদিত হয় প্রোটিনেফ্রিডিয়াল তন্ত্রের মাধ্যমে।

বাইপেলিয়ামের প্রধান খাবারের তালিকায় রয়েছে কেঁচো, মোলাস্কান স্লাগ (খোলক বিহীন শামুক জাতীয় প্রাণী), পতঙ্গের লার্ভা, এমনকি নিজ প্রজাতির অন্য সদস্য। এরা সাধারণত রাতের বেলা খাবার গ্রহণ করে। মাথার নিচে বা সিলিয়াযুক্ত অঙ্কীয় খাঁজের মাঝে থাকা কোমো-রিসেপ্টরের সাহায্যে এরা শিকারের সন্ধান পায়। বাইপেলিয়ামের নিঃসৃত পিচ্ছিল রসে শিকার সিক্ত হয়। এরপর মুখছিদ্র দিয়ে ফ্যারিংক্সটি বের হয়ে আসে এবং খাবারটিকে আন্ত্রিক গহ্বরে প্রবেশ করানোর পূর্বেই ছোট ছোট কণায় পরিণত করে।

দেহের এপিথেলিয়ার কোষ অ্যামিবয়েড রীতিতে খাদ্য কণা শোষণ করে ও খাদ্য গহ্বর গঠন করে। ডাইজেস্টিভ এপিথেলিয়াম বা অন্ত্রের শোষণ  আবরণীতে এদের খাদ্য সঞ্চিত থাকে। খাদ্য ভক্ষণ না করেই এরা গহ্বরে সঞ্চিত খাদ্যকে কাজে লাগিয়ে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সঞ্চিত খাদ্যে শেষ হয়ে গেলে বা খাদ্যের অভাব হলে এরা দেহের প্রজনন কলাগুলোকেও কাজে লাগায়।

বাইপেলিয়ামরা সাধারণত রাতেই চলাচল করে। কোনো সাবস্ট্র্যাটামে তথা ভিত্তিতে দেহ নিঃসৃত মিউকাস প্রলেপের উপর দিয়ে এরা ক্রিপিং সোলের সুসজ্জিত সিলিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে। প্রাণীটি ভূমি নিকটবর্তী কোনো গাছের উপরও ওঠানাম‍া করতে পারে।

এই চ্যাপ্টাকৃমিগুলো উভয়লিঙ্গের। দেহে দু’টি ডিম্বাশয়, অসংখ্য শুক্রাশয় এবং ভাইটেলাইন গ্রন্থি রয়েছে। কিন্তু কোনো কারণে শরীরের শেষ প্রান্ত কাটা পড়লে বা খণ্ডিত হলে সেই খণ্ড হতে অযৌন পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করতে পারে তারা। শরীর খুবই কোমল এবং খুব সহজেই অসংখ্য সক্রিয় খণ্ডে বিভাজিত হয়ে যায়। দেহের পেছনের খণ্ড কোনো ভিত্তির সঙ্গে আটকে পিতৃ দেহটি সরে যায়। শিগগিরই পশ্চাৎখণ্ডটি চলাচলের শক্তি লাভ করে এবং সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই হালকা রঞ্জকযুক্ত মস্তক গঠিত হতে শুরু করে। প্রতি মাসেই এক বা দুইটি খণ্ডক অবমুক্ত হয়। তাই কর্তিত খণ্ড থেকে নতুন অপত্যের জন্ম দেওয়া বৈশিষ্ট্যের কারণে বাইপেলিয়ামদের বিনাসের উদ্দেশ্যে কেঁটে ফেলা উচিত নয় ।

গবেষণাগারে দেখা গেছে, বাইপেলিয়াম তার নিজ দেহের ত্রিশ গুণ ওজনের কেঁচো ভক্ষণে সক্ষম। কেঁচোর ঔদরিক শিকারি হওয়ায় এবং দ্রুত বংশবিস্তারে সক্ষম হওয়ায় এরা কৃষক ও কৃষি কাজের আতঙ্কের কারণ। কেননা মাটিকে আলগা করে বাতাস চলাচল সহজ করার মাধ্যমে জমির উর্বরতা বৃদ্ধিকারী কেঁচোকে এরা খেয়ে ফেলে। কোনো গাছের ক্ষতি বা প্রাণীদেহে কোনো বিষক্রিয়া না ঘটালেও প্রকৃতির লাঙ্গল কেঁচোকে নির্মূল করে এরা দেশের উর্বর জমির জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কেঁচো ও বাইপেলিয়ামের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্ধকার পরিবেশ ও আর্দ্রতার মাত্রা একই হওয়ার ফলে এজাতীয় কীট থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় এখন পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। তাই এ জাতীয় বালাই নির্মূলে কৃষককে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এবিষয়ে খুব কম গবেষণা থাকায় প্রাণিবিদ ও কৃষিবিদদের এগিয়ে আসাও জরুরি। দেশের উদীয়মান ভার্মিকম্পোস্টিং তথা কেঁচো চাষ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ও সামনে এগিয়ে নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ করা আবশ্যক।

লেখক:
মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক (রাজশাহী); 
সাধারণ সম্পাদক, প্রজন্ম (প্রকৃতির জন্য মমতা); এম.ফিল (ফেলো), 
প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। 

কোরাল সাপ

পৃথিবীর সুন্দর সাপগুলির মধ্যে কোরাল সাপ অন্যতম। এরা দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি এরা খুবই বিষাক্ত হয়ে থাকে। এদের বিষ এতই তীব্র যে পৃথিবীর ২য় বিষধর সাপ হল এরা। কোরাল সাপের বিষ কারো শরীরে অল্প পরিমান প্রবেশ করলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত।
এদের বিষ নিউরোটক্সিক অর্থাৎ ব্রেইন ও স্নায়ুতন্ত্রকে নষ্ট করে দেয়। তাই দ্রুত তার শরীরের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেমন ফুসফুস, হৃদপিণ্ড, চক্ষু, মস্তিস্ক অকেজো হয়ে আক্রান্ত ব্যাক্তি দ্রুত মারা যাবে। তবে কোরাল সাপের মানুষ কামড়ানোর তথ্য খুবই কম এবং নিহত হওয়ার তথ্য নাই বললেই চলে।

মাইন রানা

সবুজ ব্যাসিলিস্ক

সবুজ ব্যাসিলিস্ক গিরগিটি পা ও লেজ ব্যবহার করে অনায়েশে পানির উপর দিয়ে দৌড়ে অল্প দূরত্বের পথ অতিক্রম করতে পারে। এরা দক্ষ সাঁতারু, এমনকি প্রয়োজনে এক টানা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পানির নিচে ডুবে থাকতে পারে ।

Green Basilisk বা সবুজ ব্যাসিলিস্ক গিরগিটি দেখতে পিঠের দিকে ছোট নীলাভ দাগের সঙ্গে উজ্জ্বল সবুজ। লেজে হলদে সবুজ ও কালচে বলয় আছে । মাথায় পিঠ ও লেজের গোরার দিকে পালের-মত বাড়তি অংশ আছে। সবুজ ব্যাসিলিস্ক আকারে দেহ ৩ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। ওজন প্রায় ২০০ গ্রাম পর্যন্ত হতে পারে । এদের খাদ্য তালিকায় আছে পোকামাকড়, গিরগিটি, পাখি, সাপ, ফল ও ফুল।
পুরুষ সবুজ ব্যাসিলিস্ক গিরগিটি টেরাটরিয়াল হয়। একটি পুরুষ সবুজ ব্যাসিলিস্ক গিরগিটির অধীনে বেশকটি স্ত্রী সবুজ ব্যাসিলিস্ক থাকে। সবুজ ব্যাসিলিস্ক স্ত্রী গরম, স্যাঁতসেঁতে বালি বা মাটির মধ্যে একসাথে ৫ থেকে ১৫ টি পর্যন্ত ডিম দেয় । ৮ থেকে ১০ সপ্তাহ পরে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় । সবুজ ব্যাসিলিস্ক বাচ্চারা জন্মের পর থেকেই স্বাধীন ভাবে জীবন যাপন করে।

এদের বাস মেক্সিকো থেকে ইকুয়েডর বনাঞ্চলে।

লেখা – ঋজু আজম

স্পিটিং কোবরা

কোবরা সাপের বিষ মানেই চরম বিপদ। কামড়ালে আর রক্ষা নেই। তবে কোবরার মধ্যে স্পিটিং কোবরা কামড় ছাড়াও বিষ নিক্ষেপ করে শত্রুর চোখ নষ্ট করে দিতে পারে।
এই সাপের বিষ সাধারণত চামড়ায় পড়লে কোন ক্ষতি হয়না তবে চোখে লাগলে চোখ চিরদিনের জন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই সাপের বিষ নিউরোটক্সিক হওয়ায় তা চোখের স্নায়ুগুলিকে নষ্ট করে দেয়।

ব্ল্যাক জাগুয়ার

ব্ল্যাক জাগুয়ার পৃথিবী থেকে প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছে। যে কয়টি অবশিষ্ট আছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাজন। আমাজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ভয়ঙ্কর প্রাণী জাগুয়ার তাই সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাগুয়ারের খাদ্য তালিকায় আছে হরিণ থেকে শুরু করে ইঁদুর। শিকারে দক্ষ এই প্রাণী বাঘের মাসতুতো ভাই বললেও ভুল হবে না। জাগুয়ার প্রায় ৮৭ ধরনের ভিন্ন ভিন্ন প্রাণীকে যোগ করে নিয়েছে তার খাদ্য তালিকায়। দুর্ধর্ষ এই প্রাণী চলার পথে পড়লে আস্ত মানুষকে শিকার করতেও ছাড়ে না। পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েও এ প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় নেই। দক্ষ জাগুয়ার অনায়াসে সাঁতার কেটে শিকারকে ঠিকই কাবু করে ফেলে। ঝগড়া বেধে গেলে জাগুয়ারের চেয়ে হিংস্র প্রাণী আমাজনে মেলা ভার। আমাজনের এই আশ্চর্য সুন্দর কিন্তু ভয়ঙ্কর প্রাণীটি বিলুপ্তির পথে। তাই বিশেষজ্ঞরা চেষ্টা করছেন একে রক্ষা করার। এরা পৃথিবীর অন্যতম শক্তিশালী এবং হিংস্র প্রাণী।
দক্ষিণ আমেরিকায় এটি পরিচিত জাগুয়ার নামে। আফ্রিকা এবং এশিয়াতে পাওয়া যায় এদের। আর উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে এরা পরিচিত পুমা হিসেবে। বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেছেন, জীবিত বাঘদের মধ্যে এরাই সবচেয়ে দ্রুতগতির এবং এদের শিকারের পিছু লেগে থেকে তাকে মারার আগ পর্যন্ত তাড়া করার দারুণ গুণ রয়েছে। জাগুয়ারকে নিয়ে ভয় পাওয়ার আরেকটি কারণ হলো এদের হিংস্রতা। সাধারণত বাঘ জাতীয় প্রাণীরা আক্রমণাত্দক হয় না। শুধু ক্ষুধা পেলেই তাদের নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখা যায়। সেদিক থেকে জাগুয়ার অনেক বেশি আক্রমণাত্দক। ক্ষুধা না পেলেও জাগুয়ার যদি মনে করে তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বা তার আবাসস্থলের দখল নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হচ্ছে তাহলে সে শিকারের দিকে ছুটে যায়। অনেক সময় তার শিকারের তালিকায় আরও হিংস্র প্রাণীরাও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছে। সেক্ষেত্রে জাগুয়ার মোটেও ছাড় দিতে রাজি নয়। বরং আক্রমণে সেই এগিয়ে থাকে। এসব কারণ ছাড়াও জাগুয়ারের খাদ্য তালিকা ক্রমশ ছোট হয়ে আসায় তারা অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জাগুয়ারের অস্তিত্ব বাঁচাতে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এসেছে। কিন্তু আমাজন থেকে একবার তারা হারিয়ে গেলে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা আর সম্ভব হবে না এই মত সবারই। আমাজনের এ ভয়ঙ্কর সুন্দর প্রাণীটির দিন শেষ হয়ে আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। এখন সময় বলে দেবে তাদের ভবিষ্যৎ কী।

কাল নাগিনী

বাংলাদেশের মানুষ অন্য কোন সাপের নাম যা জানলেও কালনাগিনী সাপের নাম খুব ভালভাবেই জানে। এই কালনাগিনীর পরিচিত গ্রামের আনাচে কানাচে থেকে শুরু করে শহরের অলি গলি সব জাগাতে।
এর বড় কারণ হল কালনাগিনী বাংলাদেশের সাপের সিনেমা বা ছবি গুলির সবচেয়ে বড় চরিত্র। কালনাগিনীর প্রেম, নাগ নাগিনী ইত্যাদি অনেক ছবি বানানো হয়েছে কালনাগিনীর নামে। বেহুলা লখিন্দর এর কাহিনীতেও আছে কালনাগিনীর বড় চরিত্র।

কালনাগিনীর তীব্র বিষ ও মানুষ মৃত্যু নিয়ে নানান আজগুবি কল্প-কাহিনী সমাজে থাকলেও এরা আসলে নির্বিষ সাপ। এদের কামরে মানুষ মারা যাওয়াতো দূরের কথা সামান্য ব্যথাও হয়না। প্রকৃতপক্ষে কালনাগিনী বলে যেসব সাপকে দেখানো হয় সেগুলি কোনটাই কালনাগিনী নয়। সেগুলি হল গোখরা বা কোবরা। কালনাগিনী বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর সাপগুলির মধ্যে একটি। কালো-লাল-হলুদ মোজাইকের সাপটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি নিরহী ও শান্ত।
যারা রাস্তার ধারে সাপের খেলা দেখেছেন তারা প্রায় সময় এই সাপ দেখে থাকবেন। সাপুড়ে সবাইকে বলে হাতে টাকা নিয়ে সামনে ধরতে এবং এই সাপ যার হাতে নামবে (টাকার নোট যত বেশী) সে ভাগ্যবান ও তার টাকা নিয়ে নিবে। এরপর একটি ছোট সুন্দর সাপ হাতে নিয়ে মানুষের হাতে নামাতে থাকেন। যেই সাপ সবার হাতে হাতে নামিয়ে তিনি এই টাকা নেন এটা হল সেই কালনাগিনী সাপ।
ঢাকা শহরে আমি বেঁধে মেয়েদের হাতে এই সাপ অনেকবার দেখেছি তারা হটাৎ পথচারী মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে এই সাপ দেখিয়ে টাকা নেয়।

বাংলায় কালনাগিনী বললেও ইংরেজিতে এই সাপের নাম Golden tree snake or ornate flying snake এবং বৈজ্ঞানিক নাম Chrysopelea ornata। যার বাংলা হয় উড়ন্ত সাপ। এদের নাম flying snake হলেও এরা আসলে উড়তে পারে না। তবে এক গাছ থেকে লাফিয়ে বা গ্লাইডিং করে অন্য গাছে যেতে পারে। টিকটিকি, ইঁদুর, গিরিগিটি এদের প্রধান খাবার ও পোকামাকড় ও খেয়ে থাকে। মার্চ মাসে এরা ৬-১২ টি ডিম পাড়ে যা থেকে দুইমাস পর বাচ্চা ফুটে।

মাইন রানা

অঞ্জন

অঞ্জন যার ইংরেজী নাম Common Skink। লিজার্ড প্রজাতির এই প্রাণীটি বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই আছে। মসৃণ চকচকে এদের শরীর। ১২.৫ সেমি পর্যন্ত হয। স্বভাবে এরা খুব নিরীহ। অঞ্জন মানুষের কোন ক্ষতি করেনা বরং ছোট পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশ ও কৃষির উপকার করছে প্রতিনিয়ত।
এরা কাঠ ইটপাথরের স্কুপের ফাঁকফোকরে থাকে। ঘাস বুনটের মাঝেও এদের থাকতে দেখা যায়।

লেখা ও ছবি- ঋজু আজম

শৈল ছাগল

এই ছাগলের পাহাড়ে পর্বতে চরে বেড়ানোর দক্ষতা দেখলে পৃথিবীর যেকোন পর্বতারোহীর হিংসে হবার কথা। সাধারণ মানুষ ভরকে যাবেন খাড়া পর্বতের পাথুরে দেয়ালে দ্রুতগতিতে এদের চলাফেরা দেখলে। এদের খুর গুলি খুবই শক্ত হয়ে থাকে যা দিয়ে তারা পাহাড়ের দুর্গম থেকে দুর্গম জায়গায় চলাফেরা করতে পারে এবং লুকিয়ে থাকতে পারে। এই দক্ষতা এদেরকে শিকারী প্রানীর হাত থেকে বেচে থাকতে সাহায্য করে।

উত্তর আমেরিকার রকি মাউন্টেইন পর্বতমালায় এরা খুব ভালভাবে বুনো অবস্থায় টিকে আছে।

লেখাঃ ঋজু আজম

লাজি বানর

বানরটির বসবাস গভীর বনজঙ্গলের ঝোপঝাড়ে, গাছের ফাঁকে বা ভেতরে। স্বভাবতই লাজুক প্রকৃতির। প্রায় সময় নিজেকে লুকিয়ে রাখে। ভালোবাসে স্বজাতি, পরিবার নিয়ে বসবাস করতে। দেখতে ধূসর, চোখের রং লালচে।

আসামী বানর

বাংলা নাম- আসামী বানর
ইংরেজি নাম : Assamese macaque.
বৈজ্ঞানিক নাম : Macaca assamensis
বাংলাদেশে বর্তমান অবস্থান : অরক্ষিত (VU)

আকারে বড় , চৌক –ফ্যাঁকাসে রঙ্গা মুখ । লেজ মাঝারী । লোম বাদামী থেকে ধূসর বাদামী । ওজন প্রায় ১০থেকে ১৪ কেজি । আসামী বানর দলে থাকে । ১০ থেকে ৫০ টি পর্যন্ত একেক দলের সদস্য হতে পারে । আসামী বানর গভীর বনে থাকতে পছন্দ করে । এরা একসাথে চীৎকার করে মাটিতে নামে । তবে এরা দলে থাকে । একেকটি দলে ৫ থেকে ৬০ টা পর্যন্ত বানর থাকতে পারে ।
ফল, বীজ, কচি পাতা ও কাণ্ড সহ পোকামাকড় , এর খাদ্য তালিকায় আছে । আসামী বানর দিনে প্রায় ২ কিলোমিটার পর্যন্ত ঘুরেবেরায় ।
আসামী বানর বাংলাদেশের কক্সবাজার , চট্টগ্রাম মের পাহাড়ি বনে এদের দেখা যায় ।
হুমকি- আবাস ধ্বংস ফলে খাদের অভাব ও মাংসের জন্য শিকার ।

লেখা – ঋজু আজম