Showing posts with label বাঘ(Tiger). Show all posts
Showing posts with label বাঘ(Tiger). Show all posts
রয়েল বেঙ্গল টাইগার
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণজুড়ে যেন এক সবুজ ভাসমান গালিচা হয়ে বিছিয়ে আছে সুন্দরবন। এটি পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট। এই বনের বুকে প্রতিনিয়ত চলে সাগরের জোয়ার-ভাটার খেলা। তাই বনের মাটি সর্বদাই থাকে কর্দমাক্ত। এই জঙ্গল যেমন অন্যান্য অরণ্য থেকে ভিন্ন, তেমনি এখানে বসবাসকারী বণ্যপ্রাণীদের আচরণও কিছুটা ভিন্ন। সুন্দরবনের রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগারের কথাই ধরা যাক। বিড়াল গোত্রের প্রাণীরা সাধারণত পানি এড়িয়ে চলে। পাহাড়ি জঙ্গল আর শালবনের বাঘ কালেভদ্রে পানিতে নামে। কিন্তু সুন্দরবনের বাঘকে প্রতিনিয়ত স্বজাতীয় এই নিয়ম ভঙ্গ করতে হয়। এর কারণ, সুন্দরবনের পরিবেশ। প্রায় ২ হাজার ৪০০ বর্গমাইল আয়তনের এই বনে রয়েছে চারশ'রও বেশি নদী ও কয়েক হাজার ছোট বড় খাল। একটি বাঘের নিয়মিত বিচরণ ক্ষেত্রের আয়তন হচ্ছে বিশ থেকে পঁচিশ বর্গমাইল। এই সীমারেখার মধ্যে বাঘ শিকারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ায়। আর এভাবে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে সুন্দরবনের বাঘকে প্রতিনিয়ত একাধিক খাল বা নদী পার হতে হয়। সুন্দবনের বাঘ ডাঙায় চলার মতো পানিতে সাঁতার কাটতেও দারুণ ওস্তাদ। পাহাড়ি জঙ্গলের হরিণ সাধারণত বাঘের তাড়া খেলে পানিতে লাফিয়ে পড়ে আত্দরক্ষার সুযোগ পায়, কিন্তু সুন্দরবনের হরিণ এই সুযোগ থেকে একেবারে বঞ্চিত। যে কিনা রাতের বেলা নিঃশব্দে সাঁতার কেটে নৌকায় উঠে ঘুমন্ত জেলে বাওয়ালীদের ধরে নিয়ে যেতে পারে, তার হাত থেকে বাঁচার জন্য পানিতে লাফিয়ে পড়া তো আত্দহত্যারই শামিল।
এরা সাঁতার কাটার প্রাথমিক ট্রেনিং গ্রহণ করে মায়ের কাছ থেকে। শিকার ধরা বা আত্দরক্ষার ট্রেনিংয়ের মতোই মা এদের গুরুত্ব সহকারে সাঁতার শেখায়। সুন্দরবনের বাঘ শিকারের সন্ধানে ঘুরতে গিয়ে খরস্রোতা নদীর বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে মাইলের পর মাইল। দ্রুতগতি এবং নিঃশব্দে সাঁতার কাটায় এদের কোনো জুড়ি নেই।
এই বনের প্রায় নদীতেই রয়েছে দানবাকৃতির কুমির। সাঁতার কেটে নদী পার হওয়ার সময় প্রায়ই এদের সঙ্গে সুন্দরবনের রাজার যুদ্ধ বেধে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুমিরকে পরাস্ত করে বাঘ প্রবল বিক্রমে নদী সাঁতরে তীরে উঠে আসে। তাই বলা যায়, এরা শুধু জঙ্গলের পরাক্রমশালী রাজা নয়, এই সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের সব নদনদীর একচ্ছত্র দক্ষ সাঁতারুও বটে।
এরা সাঁতার কাটার প্রাথমিক ট্রেনিং গ্রহণ করে মায়ের কাছ থেকে। শিকার ধরা বা আত্দরক্ষার ট্রেনিংয়ের মতোই মা এদের গুরুত্ব সহকারে সাঁতার শেখায়। সুন্দরবনের বাঘ শিকারের সন্ধানে ঘুরতে গিয়ে খরস্রোতা নদীর বিপরীতে সাঁতার কাটতে পারে মাইলের পর মাইল। দ্রুতগতি এবং নিঃশব্দে সাঁতার কাটায় এদের কোনো জুড়ি নেই।
এই বনের প্রায় নদীতেই রয়েছে দানবাকৃতির কুমির। সাঁতার কেটে নদী পার হওয়ার সময় প্রায়ই এদের সঙ্গে সুন্দরবনের রাজার যুদ্ধ বেধে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কুমিরকে পরাস্ত করে বাঘ প্রবল বিক্রমে নদী সাঁতরে তীরে উঠে আসে। তাই বলা যায়, এরা শুধু জঙ্গলের পরাক্রমশালী রাজা নয়, এই সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনের সব নদনদীর একচ্ছত্র দক্ষ সাঁতারুও বটে।
3:17 PM
বাঘ(Tiger)
সাদা বাঘ
লেখা ও ছবির সূত্র: দৈনিক আজকের কাগজ, জুলাই ৫, ২০০৭
সাদা বাঘ। বিরল প্রজাতির বাঘ। দেশের অন্য কোনও স্থানে বা চিড়িয়াখানায় এ প্রজাতির সাদা বাঘ আছে কি না জানা নেই। তবে শ্রীমঙ্গল শহরের রামকৃষ্ণ মিশন রোডস্থ প্রাণী ও পরিবেশবিদ সিতেশ দেব’র মিনি চিড়িয়াখানায় বিরল এ সাদা বাঘটি আপনি দেখতে পাবেন। আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে ৬ মাস বয়সী এ সাদা বাঘটি শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। সিতেশ দেব খবর পেয়ে সাদা বাঘটি সংগ্রহ করে তার মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন।
বর্তমানে সাদা বাঘটি লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা আড়াই ফুট এবং ওজন ৩৫ কেজি। অত্যন্ত হিংস্র এ সাদা বাঘটি মাংস ছাড়া অন্য কোনও খাবার গ্রহণ করে না। প্রতিদিন বাঘটি দেড় কেজি মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। এ বাঘের সবচে’ আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে· প্রতি মুহূর্তে এর চোখের রঙ বদলায়। কিছুক্ষণ পর পর এর চোখ লাল, হলুদ, সাদা ও কমলা রঙ ধারণ করে।
সাদা বাঘটি দেখতে এখানে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ড. মো. আলী রেজা খানের ‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী’ ও ‘দ্য বুক অব ইন্ডিয়ান এনিমেল’সহ বেশ কিছু প্রাণীবিষয়ক বই খোঁজাখুঁজি করেও সাদা বাঘ সম্পর্কে কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
2:25 PM
বাঘ(Tiger)
বাঘ
![]() |
| बाघ |
বাঘের বৈজ্ঞানিক নাম, panthera tigris. Panthera palaeosinensis, হচ্ছে প্রথম বিগ ক্যাট যার ফসিল পাওয়া গেছে। আকৃতিতে বাঘের চেয়ে অনেক ছোট এই প্রানীটি প্রায় ২মিলিয়ন বছর আগে চীনের বনভুমী শাষন করতো। প্রায় দেড় মিলিয়ন বছর আগের পাওয়া জাভা টাইগারের ফসিলকে সর্বপ্রথম বাঘের ফসিল বলা হয়। আইস এজ মুভীতে এধরনের এক আদী বাঘ ছিল। যাই হোক বাঘের আদি উতপত্তি চীনের বরফ শিতল অঞ্চলে।
বাঘের মোট ১১টা সাব স্পিসিসকে চিহ্নিত করা গেছে। এর মাঝে ৭ টি প্রজাতি এখন টিকে আছে (সুত্র wwf)। এগুলো হলো
১। সাইবেরীয়ান টাইগার অনেকে আমুল টাইগার বলে ডাকে। প্রায় ৩ মিটার লম্বা এবং ওজন প্রায় ৩০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। আকৃতিতে সব প্রজাতীর মধ্যে এরাই বৃহত্তম। ফ্যাকাশে সোনালী বর্নের এই বাঘ সাইবেরিয়া, কোরিয়া এবং চিনের তুষারবৃত অঞ্চলে বাস করে।অস্তীত্ব নিয়ে সবচাইতে হুমকিতে থাকা প্রাণীদের একটি এরা, সারাপৃথিবীতে মাত্র ৪৩০-৫০০টি সাইবেরিয়ান টাইগার আছে। বিভিন্ন ভাষায় এর নাম
Russian: Амурский тигр
Mongolian: Сибирийн бар
Persian: ببر سیبری
Siberian tiger
২। ইন্দোচাইনিজ টাইগারঃ মুলত থাইল্যান্ডে পাওয়া যায়, তবে ভিয়েতনাম, লাওস, চীন, বার্মাতেও পাওয়া যেতে পারে। সারা পৃথিবীতে ৭০০-১০০০টি ইন্দোচাইনিজ টাইগার আছে। অন্যান্য ভাষায় এর নাম.... Vietnamese: Hổ Đông Dương
Thai: เสือโคร่งอินโดจีน
Indochinese tiger or Corbett's tiger
৩। সুমাত্রিয়ান টাইগারঃ বাঘ প্রজাতির মধ্যে সবচাইতে ক্ষুদ্রাকৃতির এবং সবচেয়ে বিরল এবং অস্তীত্ব সঙ্কটে ভোগা প্রানী হচ্ছে সুমাত্রিয়ান টাইগার। ইন্দোনেশীয়ার পশ্চিমাঞ্চলে মাত্র ৪০০টি বাঘ টিকে আছে।Sumatran tiger
৪। জিয়ামিন টাইগারঃ Xiamen tiger বা সাউথ চাইনিজ টাইগারের অস্তীত্ব নিয়ে সন্দেহ আছে। ১৯৫০ সালের রিপোর্টে ৪০০০ বাঘের কথা বলা হলেও গত ২৫ বছরে একটিও দেখা যায় নি।৫। মালায়ান টাইগারঃ মালয়শিয়ার কিছু অরন্যে এবং ইন্দোনেশিয়ায় সামান্য কিছু মালয় টাইগার আছে। সর্বোচ্চ ৫০০বাঘ পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে পারে।এরা South China tiger or South Chinese tiger, Chinese, Amoy tiger নামেও পরিচিত।
Xiamen tiger
৬। বেংগল টাইগারঃ রয়াল বেঙ্গল টাইগার পৃথিবীর বাঘ প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় অভিজাত চেহারা, ভয়ঙ্কর শিকার কৌশল এবং অনন্য সাধারন ক্যামোফ্লেজের কারনে বিখ্যাত। লম্বায় প্রায় ৯ ফিট পর্যন্ত হতে পারে। ওজন প্রায় ২৫০-৩০০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালে বেঙ্গল টাইগার পাওয়া যায়। wwfএর হিসাবে ভারতে ১৪০০, বাংলাদেশে ২০০, নেপালে ১৫০, ভুটানে ১০০টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার আছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার দাবী করে ৫০০ বাঘের। একে বাংলা, ইংরেজী, হিন্দীতে একই নামে ডাকা হয়..যথাক্রমেবেঙ্গল টাইগার, Bengal Tiger, बंगाल बाघ ।
লেজ সহ পুরুষ বাঘেরা লম্বায় ২৭৫-৩১০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আর লেজটার দৈর্ঘ্য ৮৫-৯৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বাঘগুলোকে দাড়িপাল্লায় ওঠালে একেকটার ওজন ১৮০-২৭০ কেজির কম হয় না। তবে মেয়ে বাঘ গড়ে ১৪১ কেজির মত হয়ে থাকে। এ যাবৎকালে সবচেয়ে স্বাস্থ্যবান বাঘটা পাওয়া গিয়েছিল ভারতের উত্তর প্রদেশে। ডেভিড হেসিঙ্গার নামের এক শিকারী গুলি করে এই বাঘকে। সারা শরীর কমলা আর ধূসর রঙ তার উপর কালো ডোরাকাটা। পুরোদস্তুর রাজকীয় ব্যাপার স্যাপার।
চালচলন যেমন রাজকীয় তেমনি খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারেও সে রাজকীয়। দিনে ত্রিশ কেজি পর্যন্ত মাংশ অনায়াসে হজম করতে পারে একেকটা বাঘ। মাংশের জন্য এরা হরিণ, খরগোশ, মহিষ, বানর, জলহস্তী, ময়ূর, শুকর, মাছ সহ অনেক পশুই তাদের জীবন বাঘের ধারালো দাঁতের আঘাতে হারায়। আবার খাদ্যের অভাব দেখা দিলে মানুষ খেতেও দ্বিধা করে না এর। এই উপমহাদেশে একসময় মানুষখেকো বাঘদের বেশ উৎপাত ছিলো সেটা হয়তো অনেকেই জানো। তবে এমনিতে বাঘ মানুষখোকে হয় না। সাধারণত বয়েসে বৃদ্ধ বাঘ যখন শিকার করার শক্তি হারিয়ে ফেলে তখনই এদের মধ্যে মানুষ শিকার করার প্রবণতা দেখা যায়। আবার আহত বাঘও সহজলভ্য খাবারের আশায় মানুষখেকো হয়ে উঠতে পারে।
একেকটা বাঘ আট থেকে দশ বছর রাজত্ব করে তবেই মারা যায়। তবে বাঘরা কিন্তু একা একা থাকতেই পছন্দ করে। ক্ষুধা লাগলে মাইলের পর মাইল খুঁজতে থাকে শিকার। তারপর চুপ করে লুকিয়ে থেকে হঠাৎ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘাড়টা মটকিয়ে কাবু করে ফেলে শিকারের। এতো শক্তি থাকলেও তারা কিন্তু সাধারণত মানুষদের সামনে মোটেই আসতে চায় না। কেন যেনো দুপেয়ে মানুষদের ওরা পছন্দ করে না।
মেয়ে বাঘরা একেসাথে দুইটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে। বাচ্চাদের বয়স যখন আঠারো মাস হয় তখনই তারা শিকারে যায়। তার আগে পর্যন্ত মায়ের আনা খাবারের উপরেই নির্ভর করে।
বাঘ যখন হালুম করে শব্দ করে সেটার শব্দ তিন কিলোমিটার দূর পর্যন্ত শোনা যায়। এ শুনেই বনের হরিণ, মহিষ আর অন্যান্য প্রাণীরা দেয় এক দৌড়। বাঘদের আবার পানি খুব পছন্দ। গরম লাগলেই হলো নদী খাল যাই থাক শরীরটা এলিয়ে দেয় তাতে। ওদের সাঁতার কাটার ব্যাপারটা দারুন মজার। তারা কখনোই বাঁকা পথে সাঁতার কাটে না।
শিকারের সময় বাঘের গায়ের ডোরাকাটা দাগ তাকে বেশ সাহায্য করে। এই দাগের কারণে এ সময় সে বনের লম্বা ঘাসের মধ্যে সে নিজেকে সহজেই লুকিয়ে রাখতে পারে।
পুরুষ বাঘ সাধারণত একা একাই চলাফেরা করে। আর প্রস্রাব করে নিজের সীমানা চিহ্নিত করে রাখে।
বাঘ এক বসাতেই ৩০ কেজির মতো মাংস খেয়ে ফেলে। তারপরই না সে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারে।
Royal Bengal tiger
Bengal Tiger এর প্রজাতীতে সাদা বাঘও দেখা যায়।
white Bengal tigers
৭।মালায়ান টাইগার(Panthera tigris jacksoni), প্রধাণত Malay Peninsula এর দক্ষিন অংশে দেখা যায়।
Malayan tiger
এছাড়া বালী টাইগার, জাভা টাইগার, কাস্পিয়ান টাইগার, ১৯৫০ সালের পরে পৃথিবীতে আর দেখা যাবার রেকর্ড নেই। কাস্পিয়ান টাইগার Persian tiger, Turanian tiger, Mazandaran tiger বা Hyrcanian tiger নামেও পরিচিত। আর Trinil Tiger পৃথিবী থেকে ১.২ মিলিয়ন বছর আগেই হারিয়ে গেছে।Bali Tiger
Javan tiger
Caspian Tiger
ভারতের জাতীয় প্রানী Panthera tigris, একধরনের বেঙ্গল টাইগার। P. tigris tigris বেঙ্গল টাইগারের কর্দমাক্ত এবং লবনাক্ত ম্যানগ্রোভ অরন্যচারী বেঙ্গল টাইগার আমাদের দেশের জাতীয় প্রানী। বেংগল টাইগারের খাদ্য তালিকায় আছে বন্য শুকর, গয়াল, মহিষ, গরু, গৃহপালীত প্রানী, শেয়াল, খরগোশ, মাছ, পাখি এবং বানর। তবে হাতি এবং গন্ডার শিকারের ঘটনাও রেকর্ডে আছে।
জীন দুষনঃ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আকর্ষনীয় দেহ শৈলীর কারনে শতাব্দি ধরে বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় রয়েল বেঙ্গল টাইগারের চাহিদা অনেক। অন্যপ্রজাতির বাঘের সাথে মিলনের ফলে এদের মধ্যে জীন দুষন ঘটছে। এর মাঝে তারার ঘটনা বেশ আলোচিত। ইংল্যান্ডের এক চিড়িয়াখানা থেকে তারা নামের বিশালদেহী এক বেঙ্গল বাঘিনীকে শিকার করে জীবন ধারন করা শিখিয়ে পড়ে ভারতের দুধোয়া ন্যাশনাল পার্কে ছেড়ে দেয়া হয় বন্য পরিবেশে ১৯৭৬সালে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অনুমতিতে (সুত্রঃ উইকিপিডিয়া)। বিজ্ঞানীরা প্রমান করতে চেয়েছিলেন চিড়িয়াখানায় বেড়ে ওঠা একটা বাঘিনীকেও বন্য পরিবেশে মুক্ত করা সম্ভব। ১৯৯০ সালে বিজ্ঞানীরা দুধোয়া ন্যাশনাল পার্কের অনেক বেঙ্গল টাইগারের মাঝে সাইবেরিয়ান টাইগারের বৈশিষ্ট ফ্যাকাশে হলুদ চামড়া (রয়েল বেঙ্গলের চামড়া উজ্জ্বল সোনালী) কিংবা রোমশ দেহ পাওয়া যায়। পরে গবেষনায় এদের দেহে সাইবেরিয়ান টাইগারের জীনোটাইপ পাওয়া যায়। পরে প্রমান হয় ১৯৭৬সালে বিজ্ঞানীরা কি বিশাল অবিবেচক কাজ করেছিল। প্রকৃতপক্ষে তারা বেঙ্গল টাইগার হলেও চিড়িয়াখানায় বাঘেদের প্রজননের ব্যাপারে কোন নিয়ন্ত্রন ছিল না। হয়তো তারার পুর্বপুরুষ কেউ কোন সাইবেরিয়ান টাইগারের সাথে মিলিত হয়েছিল, তারা আসলে একটি শঙ্কর বাঘিনী ছিল।
২০০০ সালে জন ভার্টি নামের আরেকজন বিজ্ঞানী আরেক অদ্ভুত গবেষনা শুরু করে প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে। ন্যাশনাল ডিসকভারী চ্যানেলের অর্থায়নে এই প্রজেক্টে কিছু বেঙ্গল টাইগার শাবককে সংগ্রহ করা হয় বিভিন্ন চিড়িয়াখানা থেকে এদেরকে ট্রেনিং দেয়া হয় কিভাবে বন্য পরিবেশে শিকার করে জঙ্গলে ফিরে যাওয়া যায়। এদেরকে আফ্রিকার জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া হয়। লিভিং উইথ টাইগার্স নামের একটা টিভি শো তৈরি করে ডিসকভারী চ্যানেল। যেটা ২০০৩ সালে সেরা প্রোগ্রামের টাইটেল পায়। বর্তমানে আফ্রিকার জঙ্গলে ৪টা বেঙ্গল টাইগার শাষন করছে এবং আরো দুটো এই লাইনে আছে। অভিজ্ঞরা দাবী করেন প্রকৃতির নিয়মের বাইরে এই পুরো ব্যাপারটাই আপত্তিকর। ঐ চারটি বাঘ জেনেটিক্যালি খাটি বেঙ্গল টাইগার নয়। পরে প্রমান হয়, রি ওয়াইল্ডিং প্রসেস পুরোটাই ধাপ্পা বাজী ছিল। প্রকৃতপক্ষে কয়েকপুরুষ ধরে চিড়িয়াখানায় থাকা এবং বিভিন্ন প্রজাতীর সংমিশ্রনে জন্ম নেয়া শঙ্কর বেঙ্গল টাইগার গুলো আসলে শিকার করতে পারতো না। ফলে পুরো ব্যাপারটাই শাবক গুলোর জন্যে নির্মম হয়ে ওঠে।
এছাড়া মানুষের আনন্দের জন্যে বিভিন্ন চিড়িয়াখানা এবং পার্কে বাঘ এবং সিংহের সংমিশ্রনে টাইগন (টাইগার+লায়ন) এবং লাইগার(লায়ন+টাইগার) তৈরির হচ্ছে। মেন্ডেলের সুত্র অনুযায়ী স্বাভাবিক ভাবে এই অদ্ভুত প্রানী গুলো জন্ম বোবা এবং প্রজননে অক্ষম হয়। যতোদুর মনে আছে ঢাকা চিড়িয়াখাতেও এধরনের চেষ্টা করা হয়েছিল। বাঘিনী এবং সিংহকে দির্ঘ দিন একই খাচায় রাখা হয়েছিল। সৌভাগ্যের বিষয় বাঘিনীটি এবং পুরুষ সিংহটা একে অন্যকে সহ্য করতে পারতো না এবং প্রায় মারামারি করতো দেখে বাধ্যহয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ প্রজেক্টটা বাদ দেয়।
বাঘ শিকার বন্ধ করুন
বাঘ বিশেষজ্ঞ কাজী জাকের হোসেন তাঁর 'বাঘ' বইয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিড়াল (ক্যাটস) প্রজাতির তালিকা দিয়েছেন। সেগুলো হলো_ডোরা বাঘ (প্যানথিরা টাইগ্রেস), সিংহ (পি. লিও), চিতাবাঘ (পি. পারভাস), তুষার বাঘ (পি. আনসিয়া), গেছোবাঘ বা মেঘচিতা (নিওফেলিস নেবুলোসা), সোনালি বিড়াল (ফলিস টেমিনেকি), মেছো বিড়াল (ফে. ভাইবেরিনা), চিত্রা বিড়াল (ফে. বেঙ্গলেনসিস)। এ ছাড়া বনবিড়াল জাতের আট রকমের প্রজাতি আছে বা ছিল বাংলাদেশ ও ভারতে। মানুষের পিটুনিতে এসব বিলুপ্তপ্রায় নিরীহ প্রাণী মরে খবর হয়।
3:16 AM
বাঘ(Tiger)
Subscribe to:
Posts
(
Atom
)





















