প্রাণী রাজ্য

Animals Life in Bengali Description

Showing posts with label টিকটিকি(Hemidactylus). Show all posts
Showing posts with label টিকটিকি(Hemidactylus). Show all posts

লংকাবি বেন্ট টোড গেকো

উত্তর-পশ্চিম মালয়েশিয়ার একটি দ্বীপে ডক্টর লি গ্রিসমার এবং তার দল ২০০৮ সালে এই অনন্য সাধারণ টিকটিকিটি আবিষ্কার করেন।
চমৎকার দৃষ্টিশক্তি ব্যবহার করে এরা বনে শিকার ধরে। এই বনের টিকটিকিগুলো সম্প্রতি লাইমস্টোন গুহায় খুঁজে পাওয়ায় এগুলোকে এ দশকের আবিষ্কার বলা হয়েছে।

উলেস্নখযোগ্য কিছু পার্থক্য ছাড়া গুহার টিকটিকিগুলো বনের টিকটিকির মতো একই রকম দেখতে।

ডক্টর গ্রিসমার মনে করেন, এই টিকটিকিগুলো গর্তে থাকা বিষাক্ত সাপ এবং অন্যান্য শিকারী প্রাণী এড়ানোর জন্য গুহায় বাস করছে।

হর্নড লিজার্ড

উত্তর আমেরিকা ও মেস্কিকোতে এক প্রকার টিকটিকি বা গিরগিট জাতীয় সরীসৃপ দেখতে পাওয়া যায়। যারা তাদের চোখ দিয়ে ফোয়ারার মতো রক্ত উৎসারিত করে। এদের নাম হলো হর্নড টোড অথবা হর্নড লিজার্ড। এই আশ্চর্য ঘটনার বিশ্লেষণের জন্য অনেক তত্ত্বের অবতারণা হয়েছে। এগুলো থেকে লক্ষ্য করা গেছে যে, এ সময় লিজার্ড তার মাথার রক্তের চাপ বৃদ্ধি করতে পারে। চোখের ক্ষুদ্র রক্ত কোষের মেমব্রেইন বা ঝিলি্লকে বিদীর্ণ করে দিতে পারে এবং কয়েক ইঞ্চি দূর পর্যন্ত ফোয়ারার মতো রক্তের ফোটা উৎসারিত করতে পারে। জীব তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, তাদের এ কাজ একটা আত্মরক্ষামূলক যান্ত্রিক ব্যবস্থা। যখন আক্রমণকারীর চোখে বা চেহারায় এ রক্তের ফোটার ফিটা লাগে তখন এ রক্ত যন্ত্রণাদায়ক বস্তুর কাজ করে। হর্নড লিজার্ড আইগুয়ানাইড পরিবারভুক্ত। প্রায় ১৪ রকমের লিজার্ড রয়েছে। এদের বৈশিষ্ট্য হলো ছোরার আকৃতিবিশিষ্ট মাথার কাঁটা বা শৃঙ্গ। এর আকৃতির বিশেষত্বের মধ্যে আছে ডিম্বাকৃতি শরীর এবং শরীরের পার্শ্বদেশে তীক্ষাগ্র আঁশ এবং ঝাকড়া চুল। লিজার্ডগুলো অনধিক ৭.৫ সে. মি থেকে ১২.৫ সে.মি (৩ থেকে ৫ ইঞ্চি) দীর্ঘ হয়। এরা সাধারণত মরুভূমি অঞ্চলে বা প্রায় মরুভূমিতে পরিণত অঞ্চলের বালুময় এলাকায় বাস করে। এরা কীটপতঙ্গ বিশেষভাবে পিপীলিকা ধরে খায়। তারা কাত হয়ে পালিয়ে নিজেদের লুকিয়ে রাখে এবং মাথা ছাড়া সমগ্র শরীর ডুবিয়ে রাখে। কখনো কখনো এদের পালিত জন্তু হিসেবে বাড়িতে রাখা হয়। কিন্তু তারা কদাচিৎ দীর্ঘকাল বন্ধিত্ব অবস্থায় থাকে।
উৎসঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন

টিকটিকি

টিকটিকি মজার প্রাণী, সেটা তার লেজ কেটে দিলে বোঝা যায়। কাটা লেজের তিড়িং বিড়িং দেখতে দেখতে সে পগার পার। তবে লেজের চেয়ে বেশি তাক লাগানো কাণ্ড টিকটিকির চার পায়ে। ঘরের যে কোনো স্থানে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে পারে ওরা। মসৃণ ছাদের নিচে চিৎ হয়ে দেঁৗড়ায়, অথচ পড়ে যায় না কখনও। গবেষকরা প্রথমে ভেবেছিলেন ঘর্ষণ সংক্রান্ত কোনো কারিগরি রয়েছে টিকটিকির এভাবে আটকে থাকার মাঝে। তারপর তারা ধরে নেন, 'সাকশন কাপ' জাতীয় কোনো কৌশল রয়েছে টিকটিকির পায়ে। এ ছাড়া শরীর থেকে নিঃসৃত কোনো আটালো পদার্থও টিকটিকিকে ওরকম অদ্ভুতভাবে আটকে রাখতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন এর সঠিক সমাধান। যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলিতে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক আবিষ্কার করেছেন- আণবিক পদার্থবিজ্ঞানের কৌশল প্রয়োগ করে দেয়ালের সঙ্গে আটকে থাকে টিকটিকি। মজার বিষয় হচ্ছে, টিকটিকির প্রতিটি পায়ে রয়েছে লাখ খানেক করে খুদে চুল। প্রতিটা চুলের ডগা আবার কয়েকশ ভাগে বিভক্ত চ্যাপ্টা চামচের আকৃতিতে। তার মানে কোনো টিকটিকি যখন একটি দেয়ালের ওপর থাকে, তার চার পা কোটি কোটি ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র স্থান আঁকড়ে ধরে। টিকটিকির পা থেকে তখন কোটি কোটি চুলের ডগা দেয়ালের উপরিভাগের আণবিক গঠনের এত কাছে চলে আসে, দেয়ালের অণুগুলোকে ধরে রাখার একই শক্তি টেনে ধরে চুলের ডগাগুলোকে। ফলে টিকটিকি আটকে থাকে দেয়ালের সঙ্গে।

টিকটিকির রক্তের রঙ সাদা। রক্তের উপাদান মূলত তিনটি- শ্বেতকণিকা, লোহিতকণিকা আর অণুচক্রিকা। লোহিতকণিকায় থাকে হিমোগ্লোবিন, যার রং লাল। আমাদের(মানুষ)রক্তে লোহিতকণিকার পরিমাণ বেশি, আমাদের রক্তের রঙও তাই লাল দেখায়। আমাদের রক্তে লোহিতকণিকা বেশি বলেই যে সবার রক্তেই লোহিতকণিকা বেশি থাকবে, এমন কোনো কথা নেই। বেশিরভাগ মেরুদণ্ডী প্রাণীর রক্তে যেমন লোহিতকণিকা বেশি, তেমনি আবার বেশিরভাগ পোকাদের রক্তে বেশি থাকে শ্বেতকণিকা। আর তাই ওদের রক্ত সাদা হয়। তবে সাদা বললে তোমরা যেরকম সাদা বলো, ওদের রক্ত কিন্তু ঠিক সেরকম সাদা নয়। ওদের রক্তের আসলে কোনো রঙ নেই। তাই ওদের রক্তের রঙ ওদের ত্বকের রঙের সঙ্গে অনেকেই গুলিয়ে ফেলে।

-আমিন রহমান নবাব

ড্রাগন টিকটিকি

সুস্বাদু মাংসবিশিষ্ট উজ্জ্বল বর্ণের এ টিকটিকি ৬ ফুটেরও বেশি লম্বা হয়। তবে ওজনে মাত্র ১০ কেজি। এরা গাছে থাকে। তাই এরা কমোডো ড্রাগনের মতো প্রচুর পরিমাণ তাজা মাংস খেতে পারে না। এরা ফলমূল খায়। বিশ্বে ফলমূল খাওয়া টিকটিকির মধ্যে এগুলো তৃতীয় প্রজাতির। সুস্বাদু মাংসের জন্য এ প্রজাতির টিকটিকি শিকার করা হয়। মেরুদণ্ডী প্রাণীর এমন একটি বড় প্রজাতি আবিষ্কার খুবই বিরল। নতুন এ টিকটিকি ভেরানাস প্রজাতির। এরা খুব চঞ্চল এবং মানুষের কাছ থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের চোখে এটি এতদিন ধরা না পড়ার কারণ সম্ভবত বলতে পারবেন এ টিকটিকি যারা প্রথম শিকার করেছেন তারা। জীব বিজ্ঞানীরা ২০০১ সালে প্রথম এ টিকটিকির ছবি দেখেন। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে এটি এর আগে কখনও চিহ্নিত করা যায়নি। ২০০১ সালের পরের কয়েক বছরে বিজ্ঞানীরা বড় জাতের দুই ধরনের টিকটিকির গল্প শুনেছেন। সুস্বাদু মাংসের জন্য মাটিতে থাকা টিকটিকির চেয়ে গাছে থাকা এ টিকটিকি খেতে সবারই পছন্দ। আর এ টিকটিকিগুলো খুব বড় এবং উজ্জ্বল বর্ণের বলেই শুনতে পেতেন বিজ্ঞানীরা।
ফিলিপাইনে লুজন দ্বীপের গাছে বাস করে এরা।